
ভোরের বাংলা নিউজ ডেস্ক
সাত ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম পাঁচ ধাপে সর্বোচ্চসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করার চেষ্টা থাকবে। এর মধ্যে ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে দেশের ৮০ উপজেলার সব ইউপির ভোট গ্রহণের সম্ভাব্যতা নির্ধারণ করছে ইসি। নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় এবং ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল সোমবার কমিশন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় সভায় আলোচনার পর বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।
কমিশনারের দেওয়া প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ভোট হতে পারে। শেষ দুই ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে। দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউপি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন আইন অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সময়সীমার মধ্যে পড়বে বলে জানান তিনি। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আইনে পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, বাস্তবতার কারণে কিছু ইউপি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে গেছে। নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণে বিভিন্ন বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান, ঈদসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এই নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রথম পাঁচ ধাপে যত বেশি সম্ভব ইউপির নির্বাচন শেষ করার চেষ্টা থাকবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপ রাখা হবে মূলত বাকি থাকা ইউপিগুলোর জন্য। প্রথম দিকের ধাপগুলোতে কোনো কারণে নির্বাচন করা সম্ভব না হলে সেসব ইউপি শেষের দুই ধাপে নেওয়া হবে। এ ছাড়া আইনি জটিলতা বা চলমান মামলার কারণে যেসব ইউনিয়নে এখন নির্বাচন করা যাচ্ছে না, সেগুলোকেও শেষের দিকের ধাপে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এমন ইউনিয়নের সংখ্যা ৫৬টি।
প্রথম ধাপে কোন কোন ইউপিতে ভোট হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কমিশনের প্রাথমিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউপির নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতের আদেশের কারণে দুটি উপজেলার দুটি ইউপির আগে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, যেসব ইউপির নির্বাচন করার সময় (ম্যাচিউর) হয়ে গেছে, সেগুলোকে প্রথম দিকের ধাপে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৬৪টি জেলাতেই একসঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার চেষ্টা থাকবে। তবে প্রথম ধাপে ঠাকুরগাঁও জেলা বাদ থাকবে। সেখানে একটি উপনির্বাচন থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ের ইউপিগুলো দ্বিতীয় ধাপে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জেলা সদরের উপজেলার ইউপিগুলোকে প্রথম ধাপে রাখার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। যেসব জেলায় সদর উপজেলা নেই, সেসব জেলার সদর উপজেলার কাছাকাছি এলাকার ইউপিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জেলার ভেতরের সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, একই জেলার মধ্যে থাকা ভোট গ্রহণের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের কাজে লাগিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
আইনশৃঙ্খলা সভার তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইউপি নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন ধাপে এই আলোচনা হতে পারে। দলগুলোর নিবন্ধনের ক্রম অনুযায়ী তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। প্রতিটি দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তাদের সহযোগিতা চাওয়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গন্ডগোল ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু ও শেষ করতে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চায়।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন: ইউপি নির্বাচন কোন আইনের অধীনে হবে—এ বিষয়ে কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আইনের বিষয়গুলো তার সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিস্তারিতভাবে ব্রিফ করবেন।