
শেখ ফয়সাল আহমেদ :
দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষাখাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা-ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)। প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি, দরপত্র আহ্বানও করে থাকে সরকারি এ দপ্তর। ইইডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশে ছোট-বড় ৫০/৬০ টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। (সংখ্যাটি আরো কম বেশি হতে পারে)
এসব কাজে ইইডির প্রকৌশলী সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বহু পুরনো। শিক্ষা খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শূন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন অনেক সহকারী, উপসহকারী, নির্বাহী প্রকৌশলী সহ অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অধিকাংশ দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে যার কারণে দুর্নীতির প্রতি আরো বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছেন তারা। ইইডির উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ আসছে একের পর এক।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমান মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার জাজিরা গ্রামের স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। ২০১৪ সালে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন (সিভিল)।
অভিযোগ আছে কর্মজীবনের শুরুতেই অবৈধ অর্থের লোভে জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে, বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যেসব দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীরা ছিলেন যারা ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ হরিলুট করেছেন অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীরা তাদের মধ্যে অন্যতম উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।
জাতীয় বেতন স্কেল-এর গেজেট অনুযায়ী, উপ সহকারী প্রকৌশলীরা ১০ম গ্রেডের। তাদের মূল বেতন শুরু হয় ১৬,০০০ টাকা থেকে। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর মূল বেতনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়। ফলে সময় বাড়ার সাথে সাথে মূল বেতনও বৃদ্ধি পায়। ১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন সর্বোচ্চ ৩৮,৬৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ১২ বছর চাকরিতে কর্মরত আছেন, তাহলে ১২ বছরে তার মোট আয় হচ্ছে ৪৬৩,৬৮০ টাকা অথচ তিনি মিরপুর ১২ নম্বরে ২৬/৫ পল্লবীর এই বাসায় লিফট এর ৩, ফ্লাট ২ ক্রয় করেছেন। এই বিলাস বহুল ফ্ল্যাট টির বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা যা তার বৈধ আয় দিয়ে কোনভাবেই সম্ভব নয়।
অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী রাজধানীতে তার আরো রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্লাট এবং গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর কালকিনিতে অবৈধ অর্থ তৈরি করেছেন একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি জমা ক্রয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ কমিশন বাণিজ্য সহ নানা অভিযোগে এর আগেও তার অধিদপ্তরে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছিল কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেই অভিযোগগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী অবৈধ অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সবকিছুই তিনি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
অভিযোগ আরো উল্লেখ করা হয়েছে উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের কর্মস্থলের সকল প্রকার হিসাব পুনরায় তদন্ত করলে তার অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে।
আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী সন্তান মা-বাবা শশুর শাশুড়িসহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন। যা স্বাধীনভাবে সকল আত্মীয়-স্বজনের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এর কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন আপনারা সংবাদ প্রকাশ করুন তাহলে অবশ্যই তার অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন দুর্নীতি দমন কমিশন দু’দক শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে এটি একেবারেই ভুল ধারণা গণমাধ্যময় প্রকাশিত অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ গুলো গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।