
মোহাম্মদ আব্দুন নুর রানা | সিনিয়র রিপোর্টার
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর): বর্ষা আসতে এখনো দেরি, অথচ ফাল্গুনের শেষে আচমকাই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে মধুমতি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের আকস্মিক এই তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দুটি পরিবারের শেষ সম্বল—তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। চিরচেনা ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এখন দিশেহারা দুই পরিবার।
মুহূর্তেই নিঃস্ব দুই পরিবার
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া তীব্র ভাঙনে কৃষ্ণপুর গ্রামের সোহাগ শেখ ও মনা মিয়া শেখের বসতভিটা চোখের পলকে নদীতে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র সরানোর সুযোগটুকুও দেয়নি রাক্ষুসে মধুমতি।
নিঃস্ব হওয়া সোহাগ শেখ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,
“বহু কষ্টের এই ভিটেটুকুই ছিল আমার সব। নদী এক নিমিষেই সব কেড়ে নিলো। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, কী করব—কিছুই জানি না।”
একই সংকটে পড়েছেন মনা মিয়া শেখের স্ত্রী নিহার বেগম। তিন মেয়ের বিয়ের পর একাকী এই ভিটাতেই দিন কাটছিল তার। কিন্তু সন্ধ্যারাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে আজ তিনি সর্বস্বান্ত। বারবার ভাঙনের শিকার হওয়া এই নারী এবার আক্ষরিক অর্থেই ঘরহীন হয়ে পড়েছেন।
জনপদে বাড়ছে আতঙ্ক
স্বাভাবিকভাবে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের খবর পাওয়া গেলেও, অসময়ের এই ভাঙন পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা বাঁধ বা জরুরি পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে কৃষ্ণপুর গ্রামের আরও বড় অংশ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর ভাঙন হলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে বা বাঁধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন তারা।
প্রশাসনের আশ্বাস
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ামাত্রই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন:
দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
প্রকৃতির এই আকস্মিক আঘাত সয়ে নিয়ে পুনরায় বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং মধুমতির গ্রাস থেকে রক্ষা পায় অবশিষ্ট কৃষ্ণপুর গ্রাম।