
স্টাফ রিপোর্টারঃ
জমির প্রাণ ফেরাতে কৃষকরা নিয়মিত সবুজ (জৈব) সার হিসাবে ব্যবহার করতেন ধৈঞ্চা। কিন্তু কালের বিবর্তনে জমিতে হাইব্রিড ফসল আর রাসায়নিক সারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় প্রায় উঠেই যাচ্ছে ধৈঞ্চার চাষ। তবে নীলফামারীর ডোমারে বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারে ২০০ একর জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি।
খামারটিতে ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনের পরপরেই রোপন করা হয় এই সবুজ সার ধৈঞ্চা। ধৈঞ্চা উৎপাদন করতে ৪৫ থেকে ৫০ দিন বয়সেই প্রতি হেক্টরে ২৫ থেকে ৩০ টন সবুজ (জৈব) সার হয়। এর ফলে ১০০ থেকে ১৫০ কেজি নাইট্রোজেন সরবরাহ করে। যা ২২০ থেকে ২৬০ কেজি ইউরিয়া সারের সমান।
সূত্র জানায়, ১৯৫৭-৫৮ সালে সরকার ডোমার খামারটি প্রতিষ্ঠা করে। তৎকালীন কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে খামারের কার্যক্রম শুরু হয়। বীজআলু উৎপাদনে অধিক উপযোগী মনে করে ১৯৮৯-৯০ সনে খামারটি আলুবীজ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়।
আশানুরুপ ফসলের ফলন পেতে এবং মাটিকে উৎপাদনক্ষম রাখতে বর্তমানে রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিকল্পিত রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। বিপন্ন হয়ে পড়েছে জীববৈচিত্র। দেশের ভৌগলিক অবস্থানের তুলনায় অত্যাধিক মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে ভূমির ওপরেই মূল ভরসা। সেজন্য জমির উর্বরা শক্তি অক্ষুন্ন রাখতেই কৃষি বিভাগকে নিতে হচ্ছে নতুন নতুন পরিকল্পনা। তারই আলোকে করা হচ্ছে ধৈঞ্চার চাষ। ধৈঞ্চা মাটির উর্বরতা ও ভৌত গুণাবলির উন্নতি সাধন করে। এটির মূল মাটির গভীরে যাওয়ায় পুষ্টি শোষন করে মাটির উপরিভাগে আনে। মাটিতে গাছের পুষ্টি উপাদানকে সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে জমির আদ্রতা ও জোঁ অবস্থা সঠিক রাখে। এটেল মাটিকে নরম করে এবং বেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ক্ষয়রোধ করে।
খামারের কাজ করতে আসা শ্রমিক রেজাউল ইসলাম বলেন, আগের আমলের বাপ-দাদারা প্রতি বছর একবার ধৈঞ্চার চাষ করতেন। কিন্তু কোথাও চোখে পড়ে না তেমন ধৈঞ্চা চাষ। বর্তমানে ডোমার ফার্মে প্রতি বছর ধৈঞ্চা চাষ করে। একমাসের মধ্যেই সবুজ চারায় ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ। ধৈঞ্চার চাষে উর্বরতা নরম ও সবুজ ধৈঞ্চার ক্ষেত।
ফার্মে কাজ করতে আসা শ্রমিক বাবু ইসলাম বলেন, আমি ফার্মে গত ৪ বছর ধরে কাজ করি। এখানে ধৈঞ্চাসহ সব ধরনের জমিতে কাজ করে আসছি। তাতে দেখেছি রোপা আমন চাষে সাধারণত যে পরিমাণ রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হতো তার অর্ধেক সার ব্যবহার করা লাগবে বলেও জানান তিনি।
বিএডিসির সহকারী পরিচালক সুব্রত মজুমদার বলেন, ধৈঞ্চার ব্যবহার এখন কমে গেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিএডিসির খামারে ধৈঞ্চা চাষে হচ্ছে। এতে একদিকে জমিতে সার ব্যবহার কমছে । আরেকদিকে সার কম ব্যবহারে ধৈঞ্চা চাষে সরকারের ফার্মে লাভ হচ্ছে।
ডোমার ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও বীজ আলু উত্তোলন শেষে ডোমার বিএডিসি খামারে উত্তপ্ত খর তাপ উপেক্ষা করে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ২শ একর জমিতে সবুজ সার ধৈঞ্চা চাষ করা হয়েছে এতে জমির উর্বরতা বাড়বে ফসলের রোগবালাই কমবে। সবুজ সার জৈব পদার্থ যোগ করে মাটিকে উর্বর করে এবং মাটির ভৌত গুণাবলির উন্নতি সাধন করে।