
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
কৃষিকে আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’। বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ কংগ্রেসে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, পার্টনার, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল, যশোর।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা টিপু সুলতান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ এবং কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনসারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রাণী সরকার।
বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি খাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে বাংলাদেশ গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (বাংলাদেশ GAP) বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। নিরাপদ ও মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করা যাবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে।
কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক-কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
“কৃষিই সমৃদ্ধি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কংগ্রেসে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পার্টনার প্রকল্পের কার্যক্রম কৃষকদের মধ্যে উত্তম কৃষি চর্চা সম্প্রসারণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।