
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে পথচারী ও যানবাহনের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও দখলমুক্তকরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই বাসের ধাক্কায় নুর ইসলাম (৬৫) নামে এক হোটেল শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কোটচাঁদপুর শহরের আম বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ইসলাম শহরের বাজেবাহনদা মণ্ডলপাড়ার মৃত আমছার আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে কর্মস্থল হোটেলের উদ্দেশে বের হন নুর ইসলাম। শহরের আম বাজার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী ‘দর্শনা ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করায় এবং ময়নাতদন্ত না করানোর আবেদনের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটচাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ফলের আড়ত, বিভিন্ন ধরনের মাপযন্ত্রের (স্কেল) দোকান, গ্যারেজ, গাড়ি ওয়াশসহ নানা ধরনের স্থাপনা রয়েছে।
এসব স্থাপনার কারণে সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পথচারী ও যানবাহনকে অনেকটা একই জায়গা ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার এলাকায় সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা, মালামাল ওঠানামা এবং দোকানের সামনে মানুষের ভিড়ের কারণে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কের দুই পাশের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা গেলে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলের জায়গা বাড়বে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, কোটচাঁদপুরে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সড়ক ব্যবস্থাপনা, দখলমুক্তকরণ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখলের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। কোটচাঁদপুরে সওজের জায়গা দখলের বিষয়টি তিনি সাংবাদিকের কাছ থেকেই জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে অফিসে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর শুধু ঘাতক যানবাহন শনাক্ত বা চালককে আটকের মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ না রেখে সড়কের দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত করা এবং ব্যস্ত বাজার এলাকায় কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কোটচাঁদপুরের সড়কে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।