
খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন থামিয়ে লুটপাট, কুপিয়ে আহত ২; ‘মাস্টার’ নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বের অভিযোগ:
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কে গভীর রাতে রাস্তার ওপর খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও তেলের লরির গতি রোধ করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত মুখোশধারী ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল পথচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় জহিরুল ইসলাম (৪৬) গুরুতর আহত হন। এছাড়া এক ট্রাকচালকও হামলার শিকার হন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর থানার লক্ষ্মীকুন্ডু গ্রামের কুশোগুড়ি মাঠসংলগ্ন নির্জন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে মোটরসাইকেলে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর বাজারপাড়ার আবুল কাশেম মণ্ডলের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৪৬) এবং মহেশপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের মৃত দাউদ হোসেন মালিথার ছেলে মো. মমিনুর রহমান (৪২)। পথে কুশোগুড়ি মাঠ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা মুখোশধারী ডাকাতরা রাস্তার ওপর খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে তাদের গতিরোধ করে।
মোটরসাইকেল থামার পর জহিরুল ইসলাম সামনে এগোতেই ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, এক ডাকাত ধারালো দা দিয়ে তার পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় এবং অপর একজন করাত দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় ডাকাতরা জহিরুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলচালক মো. মমিনুর রহমানকে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা ও একটি নোকিয়া বাটন মোবাইল ফোন লুট করে।
মোটরসাইকেল আরোহীদের লুটপাটের পরপরই কোটচাঁদপুরমুখী দুটি ট্রাক ও একটি তেলের লরির গতিরোধ করে ডাকাত দল। এ সময় সাবদারপুর গ্রামের ট্রাকচালক মো. রিয়াদকে মারধর করে আহত করা হলেও তার কাছ থেকে কিছু নিতে পারেনি। পরে তেলের লরির চালককে জিম্মি করে তার কাছ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতির সময় দুষ্কৃতকারীরা নিজেদের মধ্যে একজনকে ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করছিল। তাদের ধারণা, ‘মাস্টার’ নামের ওই ব্যক্তিই ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
এদিকে লুটপাটের কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা লুট করা মালামাল নিয়ে দ্রুত অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। থানা সূত্র জানায়, মুখোশধারী ডাকাত দলকে শনাক্ত, গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেফতার এবং কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কে রাতের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।