দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
মোঃ শাহীন ইসলাম।
দিনাজপুরে পরকিয়া প্রেমের জেরে প্রেমিকের সাথে মতের অমিল হওয়ায় দা দিয়ে প্রকাশ্যে এলোপাতারি কুপিয়ে জয়া বর্মন(সুন্দরী) হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক তরিকুল ইসলাম(চান্দু)কে আ.টক করেছে পুলিশ।
গত ২৭/০৯/২০২৩খ্রিঃ অনুমান সন্ধ্যা ০৬:৩০ হইতে ০৭:০০ ঘটিকার মধ্যে দিনাজপুর কোতয়ালী থানাধীন মির্জাপুর বাস টার্মিনাল(কালুর মোড়) বিসমিল্লাহ হোটেলের দক্ষিণ পার্শ্বের গলিতে জয়া বর্মন(সুন্দরী) নামীয় হোটেল কর্মী অজ্ঞাতনামা দূর্বিত্ত দ্বারা আক্রান্ত হন। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দা দিয়ে কুপিয়ে ভিকটিমকে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরবর্তীতে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুরে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত হওয়ার সাথেই দিনাজপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনার পরপরই সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব শাহ ইফতেখার আহমেদ পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় থানা পুলিশের একটি চৌকশ দল অভিযান শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ মমিনুল করিম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব আব্দুল্লাহ আল মাসুম এর সমন্বিত পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব শেখ মোঃ জিন্নাহ আল মামুন এর নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ কোতয়ালী থানা জনাব মোঃ ফরিদ হোসেন, এসআই(নিঃ) মোঃ শামীম হক, এসআই(নিঃ) মোঃ জুয়েল রানা, এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান, এএসআই(নিঃ) মোঃ শাহ আলম এর অংশগ্রহণে অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীকে সনাক্ত করা হয়। অপরাধী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য দিনাজপুর জেলার রাজবাড়ী, বড় বন্দর, শেখহাটিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অদ্য ০১/১০/২০২৩খ্রিঃ তারিখ ভোরে দিনাজপুর খানসামা থানাধীন পাকের হাট বাজারের মাহিন সুইট নামীয় হোটেলের ভিতর হইতে আসামী মোঃ তরিকুল ইসলাম @ চান্দু(৩২), পালক পিতা-মৃত আশরাফ আলী, মাতা-তাহমিনা বেগম, সাং-মুরাদপুর দামপুকুর, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুরকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীর দেখানো মতে হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত দা আলমত হিসেবে জব্দ করা হয়।
আসামীকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাউদিয়া হোটেলে বয় হিসেবে কাজ করত। ভিকটিম একই হোটেলে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরী হয়। আসামী প্রায়শই ভিকটিমকে বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা দিত বলে দাবী করে। তাদের মধ্যে বিয়ের বিষয়টি নিয়েও মাঝে মধ্যে মাতানৈক তৈরী হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী মোঃ তরিকুল ইসলাম @ চান্দু আঘাতের উদ্দেশ্যে ২০০/- টাকা দিয়ে দিনাজপুর কোতয়ালী থানাধীন মহারাজার মোড়স্থ কামাড়ের দোকান হইতে দা ক্রয় করিয়া গত ২৭/০৯/২০২৩খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬:৩০ ঘটিকা হইতে ০৭:৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম জয়া বর্মন(সুন্দরী)-কে উপর্যুপরি কুপিয়ে ঘটনাস্থল হইতে দ্রুত পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সিং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করিয়া একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করিয়া উল্লেখিত স্থান হইতে আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। আসামী নিজে ঘটনা ঘটিয়েছে এমন বক্তব্য প্রদান করিলেও আরো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হত্যাকান্ডে জড়িত রয়েছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের স্বামী সপাল রায়(৩৩), পিতা-অনন্ত রায়, সাং-বনডাঙ্গা, ০৯নং সেনগাও ইউপি, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-ঠাকুরগাঁও, বর্তমানে ফকিরপাড়া(জনৈকা খালেদা, স্বামী-আঃ সামাদ এর ভাড়াটিয়া), থানা-কোতয়ালী থানা, জেলা-দিনাজপুর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করিলে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার মামলা নং-৫৭/৭৩৮, তাং-২৮/০৯/২০২৩খ্রিঃ, ধারা-৩০২ পেনাল কোড ১৮৬০ মোতাবেক রুজু করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।
আসামীর পিসিপিআর যাচাই করে আসামীর বিরুদ্ধে নিম্নে বর্ণিত মামলা পাওয়া যায়-
১। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার মামলা নং-৪৬/১৬৮, তাং-২৩/০৩/২০২২খ্রিঃ,
ধারা-৪৪৭/৩৪১/৩২৬/৩০৭/১১৪/১০৯ পেনাল কোড ১৮৬০।
২। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার মামলা নং-৬৩/৬০১, তাং-২৮/০৯/২০২১খ্রিঃ,
ধারা-১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩০৭/৩৮৫ পেনাল কোড ১৮৬০।
অভিযানে গ্রেফতারকৃত আসামীর স্বীকারোক্তি মোতাবেক উল্লেখিত আলামত উদ্ধার করা হয়-
১। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা ০১টি(উদ্ধার)
