
মো নাজিউল্লাহ ভূইয়া
কেরানীগঞ্জ( ঢাকা) প্রতিনিধি
রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কেরানীগঞ্জে শক্তিশালী সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দিল জাতীয় নাগরিক কমিটি।
আজ বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নাগরিক কমিটি কর্তৃক স্থানীয় একটি রিসোর্টে আয়োজিত ‘পরিচিতি সভা’টি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় জনসমাগমে মুখর এক রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মঞ্চে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন,
“শাক্তা ইউনিয়নের মাটি থেকেই আজ রাষ্ট্র সংস্কারের যে বার্তা উচ্চারিত হচ্ছে, তা একদিন সারাদেশে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে। আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়—পুরো ব্যবস্থার আমূল সংস্কার চাই।”
তিনি আরও বলেন,“জাতীয় নাগরিক কমিটি কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি সাধারণ মানুষের সংগঠন, বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর।”
একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তৃণমূল জনগণের ভূমিকাকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন,“তৃণমূল থেকেই সংগঠিত শক্তি গড়ে তুলতে পারলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব। পদ-পদবির চেয়ে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাড়া-মহল্লায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মো. রাসেল মোল্লা বলেন,“তৃণমূলই রাজনীতির মূল ভিত্তি। শাক্তার প্রতিটি ঘরে রাষ্ট্র সংস্কারের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। কেরানীগঞ্জ থেকে শুরু করে সারাদেশে এই সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ছে, সংগঠনের জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী। এই জনসমর্থনকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন,
“যত বাধাই আসুক, আমরা জনগণের পাশে থাকব। অতীতে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, জনগণকে সাথে নিয়ে স্বৈরাচার হাসিনাকে বিতাড়িত করেছি, , ভবিষ্যতেও কোনো অপশক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।জনগণকে সাথে নিয়ে সকল অন্যায় রুখে দিব ।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. জাবেদ হোসেন। তিনি বলেন,
“স্থানীয় পর্যায়ের বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তৃণমূল থেকেই পরিবর্তনের ভিত্তি রচিত হয়।”
অনুষ্ঠানে শাক্তা ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি প্রদান করা হয় এবং সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হয়। একইসঙ্গে একটি সুসংগঠিত ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, যেখানে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণসংযোগ জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সভায় বক্তব্য রাখেন সময় শাক্তা ইউনিয়নের প্রধান সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা ইমরান হোসেন এবং শহীদ সায়েমের মাসহ স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীগণ।
সভায় বক্তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। কেরানীগঞ্জের এই শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি সেই পরিবর্তনের পথকেই আরও প্রশস্ত করবে।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত রাজনৈতিক আবহে পরিণত হয়। করতালি ও স্লোগানে মুখর পরিবেশে সভার সমাপ্তি ঘটে।