
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার শহর ও আশপাশের গ্রামীণ সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাটিভর্তি অবৈধ ট্রাক্টর (স্থানীয়ভাবে যা ‘কাঁকড়া গাড়ি’ নামে পরিচিত)। কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটা ও নিচু জমি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত এসব ট্রাক্টরের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, ঝরছে তাজা প্রাণ।
শহরের খোলাবাড়ী, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা, মোল্লা বাজার, লক্ষীপুর রোড, দারিয়াপুর রোড,বালুয়া রোডসহ শহরের বিভিন্ন মহাসড়ক ও গ্রামীণ জনপদে দিন-রাত সমানতালে চলছে প্রায় শতাধিক অবৈধ ট্রাক্টর।
মাটিভর্তি এসব ট্রাক্টর চালকরা অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়।
এমনকি আজ সকালেও সুন্দরগঞ্জে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গত কয়েক বছরে এই ‘মরণঘাতী’ গাড়ির আঘাতে শহরে অসংখ্য মানুষ মৃত্যু সহ হতাহত হয়েছেন।
পরিবেশ ও রাস্তা নষ্ট: ট্রাক্টর থেকে চুয়ে পড়া মাটিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ পথচারী ও এলাকাবাসী।
অবৈধ এই ট্রাক্টরগুলোর কোনো লাইসেন্স বা চালকদের বৈধ কোনো প্রশিক্ষণ না থাকলেও বীরদর্পে তারা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
ট্রাফিক আইনকে তোয়াক্কা না করে এসব যান চলাচলের ফলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ কার্যক্রম দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
গাইবান্ধার সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ ট্রাক্টর বন্ধ করার জোরালো দাবি উঠেছে।
নাগরিক মন্তব্য: “রাস্তায় বের হলে মনে হয় যমদূত ধেয়ে আসছে। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে মৃত্যুর এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।