
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার প্রতিনিধি:
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী জনসভা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচার-প্রচারণা আর পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এই নির্বাচনে না আসায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অনেক প্রগতিশীল ভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের নদ-নদী, কৃষি সমৃদ্ধ ও প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত জেলা চুয়াডাঙ্গা।
দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের ভারত সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। এ আসনে সদর উপজেলার ৪ টি, দামুড়হুদা উপজেলার ৮ টি এবং জীবননগর উপজেলার ৮টি নিয়ে গঠিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৮ জন প্রাথী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাজী আলী আজগার টগর (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী রবিউল ইসলাম (লাঙ্গল), এনপিপির ইদ্রিস চৌধুরী (আম), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দেওয়ান মোহাম্মদ ইয়াসিন উল্লাহ (মশাল), জাকের পার্টির আব্দুল লতিফ খান যুবরাজ (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ- কমিটির সদস্য আবু হাশেম রেজা (ট্রাক), স্বতন্ত্র প্রার্থী । চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাবেক এমপি মির্জা সুলতান রাজার ছোট ভাই মির্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লন্টু। (ঢেঁকি) স্বতন্ত প্রার্থী ও দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নূর হাকিম (ঈগল)।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনের দুটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বহুধা বিভক্তিতে রয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে অনেকটা মজবুত হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও নেতৃত্ব নিয়ে বহুধা বিভক্তির কারণে সাংগঠনিক অবস্থান সে তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।২০০৮ থেকে চলতি সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা ৩ দফায় সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাজী আলী আজগার টগর। তিনি এবারও আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দল ও দলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের
সাথে তার কোনো সমন্বয় নেই। শুধু তাই নয়-তিনি দুই উপজেলারই দায়িত্বশীল নেতাদের পাশ কাটিয়ে নিজের অনুসারী বিশেষ কুঠুরীর নেতাকর্মীদের নিয়ে করেছেন মাঠ পর্যায়ে কাজকর্ম চালিয়েছেন। যে কারণে দুটি উপজেলাতেই এমপি ও এমপি বিরোধী গ্রুপের প্রকাশ্য অবস্থান রয়েছে। আর সেক্ষেত্রে
এমপি বিরোধী গ্রুপের অবস্থানই মজবুত। সরকারের চলতি মেয়াদে এ আসনে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং স্কুল-কলেজ, মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নসহ কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। এ ছাড়াও দামুড়হুদার দর্শনায় ১টি শুল্ক স্টেশনকে
বন্দরে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে।
এ আসনে টানা ৩ বারের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাজী আলী আজগার টগর। তিনি এবারও আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। এবার তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হাশেম রেজা। তিনি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দল তাকে মনোয়ন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একইভাবে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ঢাকাস্থ চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাবেক এমপি মির্জা সুলতান রাজার ছোট ভাই মির্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লন্টু ও দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নূর হাকিম। মনোনয়ন না পেয়ে তারাও স্বতন্ত্র প্রাথী হয়েছেন।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, নৌকার বিজয় হলে ওই সুবিধা ভোগীরাই আবার সকল সুবিধা ভোগ করবে। তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ত্রিমুখি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮জন। এখানে পুরুষ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪০২ এবং মহিলা ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৯২ জন।