আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আমতলী সদর ইউনিয়নের ছুরিকাটা গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে নিতে গেলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের বিরুদ্ধে বাঁধা দেওয়া এবং ৫০ লক্ষ টাকা চঁাদা দাবীর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে জমির মূল মালিক খালেদা বেগম। ১৫ জুন বেলা ১১ টায় আমতলীর জেলা পরিষদ ডকবাংলোর হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন ঢাকার তাজমহল সড়কের বাসিন্দা মৃত আব্দুর রশিদ হাওলাদারের মেয়ে খালেদা বেগম। তিনি তার বক্তেব্যে বলেন, আবার বাবা রশিদ হাওলাদার ও মা ফজিলাতুন নেছা ৫টি কবলা দলিল মূলে ৩ একর ৩৪ শতাংশ জমির মালিক। ভূলক্রমে আমার ৫ মামা আনোয়ার হোসেন তালুকদার, মনোয়ার হোসেন তালুকদার, বারেক তালুকদার, দেলোয়ার হোসেন তালুকদার ও জাহাঙ্গীর তালুকদার তাদের দুই মাতা করফুল নেছা ও উরফুল নেছা এর নামে ১৯৭৭ সালে একটি বন্টন নামা দলিল করেন। ওই দলিলে আমার মা ফজিলত নেছা এবং বাবা আব্দুর রশিদ হাওলাদার এর কোন স্বাক্ষর নেই। আমার মা আমতলী মৌজার ৩১ নং জেএল এসএ খতিয়ানের ২০৫০, ২০৫১, ২০৯৮,২৩৪৩,২৩৪৪ ও ২৩৪৬ নং দাগে ৩২৮ শতাংশ জমির মালিক থাকিয়া ২০০৩ সালে ৫৮.৩১ শতাংশ জমি বিক্রয় করেন। এর মধ্যে ৯৬ শতাংশ জমির উপর আদালতের নিষেধাঞ্জা থাকায় বাকী থাকে ১৭৪.৩১ শতাংশ। উক্ত জমি আমরা ওয়ারিশগন সীমানা পিলার স্থাপন করে ভোগ দখল করে আসছি। এবং ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর এবং ২০২৩ সালের ৯ মেয়ে ২টি দলিলে জুলেখা বেগম, মো. মতিয়ার রহমান, মো. মোজাম্মেল হোসেন, সফিউল আজম সোহেল গাজী ও তোফাজ্জেল হোসেন তপুকে ক্ষমতা অর্পন করি। ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে উক্ত ব্যাক্তিরা গত ৪ জুন রবিবার জমিতে গেলে প্রতিপক্ষ তমাল তালুকদার, পিয়াল তালুকদার, মৃনাল তালুকদার, মঈন তালুকদার,নাজমুল আহসান পাপুল ও ডিকেন তালুকদার তাদেরকে বঁাধা দেয় এবং ৫০ লক্ষ টাকা চঁাদা দাবী করেন। তাদের ভয়ে দাবীকৃত টাকার মধ্যে ৭লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হলেও তারা বাকী ৪২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চঁাদা পরিশোধের জন্য ক্ষমতা প্রাপ্ত মালিকদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা বেগম বলেন, তাদের ভয়ে এখন আমরা জমি দখলে যেতে পারছিনা। জমিতে গেলে তারা আমাদেরকে খুন খারাবিরও হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেনন ক্ষমতা প্রাপ্ত সফিউল আজম সোহেল গাজী, তোফাজ্জেল হোসেন তপু ও ফারজিনা রহমান মেরুনা। ক্ষমতা প্রাপ্ত জমির মালিক সফিউল আজম সোহেল গাজী বলেন, জমি দখলে নিতে গেলে প্রতিপক্ষ তমাল তালুকদারসহ তাদের লোকজন আমাদের নিকট ৫০ লক্ষ টাকা চঁাদা দাবী করছে। টাকা না দিলে আমাদেরকে যেতে দিবে না এবং মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
অভিযুক্ত তমাল তালুকদার চঁাদা দাবীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমির প্রকৃত মালিক আমরা। এখানে খালেদা বেগম এবং অন্য ওয়ারিশরা যে ক্ষমতা অর্পন দলিল প্রদান করেছে তা অবৈধ। এছাড়া এই জমির উপর আদালতের নিষেধাঞ্জা রয়েছে।
