
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কুরআন এন্ড কালচারাল স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে ‘বিলিভার্স গ্যাদারিং’ শীর্ষক শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷
শনিবার ( ৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আয়োজন শুরু হয়। পরে বাদ আসর কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে হামদ-নাত ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিচিত্র সব খেলাধুলায় মেতে উঠেন শিক্ষার্থীরা৷ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। পরে বাদ আসর অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ছিল কুইজ প্রতিযোগিতা, কুরআন তিলওয়াত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পর মাগরিব নামাযের পর নাসীহাহ ও এশার নামাজের পর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে ক্লাবের উদ্যোগে রাতের প্রীতিভোজে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া বিকাল ৩ টা থেকে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে প্রতিযোগিতার আরেকটি অংশ অনুষ্ঠিত হয়৷ নারী শিক্ষার্থীদের এ প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামিক আলোচনা, কুইজ ও শিক্ষামুলক বিনোদন, নাশিদ কম্পিটিশন ও ইনডোর গেমস। পরে বাদ মাগরিব পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে তাদের আয়োজন শেষ হয়৷
অনুষ্ঠানে নাসীহা প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এখন মুসলমানদের একতাবদ্ধ হওয়ার সময়। মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা যদি দুই হাত মেলে ধরি তাহলে কেউ গন্ডির বাইরে যাবে না, সুখে দুঃখে একাত্ম হয়ে থাকতে পারবো। তাই সবার প্রতি আমার আহবান আসুন আমরা একত্রিত হই। ইসলামী জীবনব্যবস্থার ব্যাপারে মানুষের সকল ভুল ধারণা ভেঙে দিতে হবে। এভাবেই সবাই আগ্রহী হবে৷
অনু্ষ্ঠানের আয়োজক রায়হান উদ্দিন বলেন, মুসলিমরা বিভিন্ন কারণে নিজেদের সাংস্কৃতির চর্চা থেকে দূরে সরে গেছি। জাবির মতো সাংস্কৃতিক রাজধানীতে মুসলিম সাংস্কৃতিক জিইয়ে রাখতে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই মিলন মেলা। আমাদের এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। সামনের দিনগুলোতে আমাদের এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে৷
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান, বিভিন্ন হলের মসজিদের ইমাম সাহেবগণ ও ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।