এসএম শাহজাহান শুভ, জেলা প্রতিনিধি: সারা দেশে শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রশাসনের অনুমতিতে চলছে রবীন্দ্র উৎসবের নামে মাসব্যাপী মেলা ও অশ্লীল যাত্রাপালা। এই মেলায় উল্লেখ করার মতো দোকানপাট নেই। তার বদলে কুরুচিপূর্ণ নৃত্য আর জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। শর্ত জুড়ে দেওয়া অনুমতির অর্ধেকের বেশি লঙ্ঘন করে চলছে মেলার কার্যক্রম। এতে করে উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
জানা যায়, গত ৮ মে নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের জাতীয় আয়োজন হিসেবে তিনদিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীর মেলার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র জন্মোৎসব শেষ হয়। কিন্তু স্থানীয় কিছু ব্যাক্তি নিজেদের রবীন্দ্র ভক্ত দাবী করে আবারও রবীন্দ্র জন্মোৎবের নামে জেলা প্রশাসক বরাবর মাসব্যাপী মেলার আবেদন করেন। যেখানে গ্রামীন যাত্রাপালা চালানোর জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক নিবন্ধিত যাত্রা দল ” পদ্মা অপেরা” কানাই খালী, নাটোর যাত্রাপালা পরিবেশন করার কথা থাকলেও গত বছরের ন্যায় এই বছরেও যাত্রার নামে মেয়েদেরকে দিয়ে অশ্লীল নিত্য ও যাত্রা পরিবেশ করছে।যেখানে১০ টাকা দিয়ে মেয়েদের বিশেষ অঙ্গে হাত দেওয়া যায়।স্থানীয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় মাসব্যাপী ধরে কথিত মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া, ও মাদকের এ আসর চলছে।তাই অশ্লীল যাত্রা পালা বন্ধ না হলে পাশেই যেহেতু উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর অশ্লীলতার প্রভাব পরবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১ জুন রাত থেকেই আত্রাই উপজেলায় পতিসর রথীন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় এর পাশে ফসলের জমিতে মেলায় যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর চলছে। যাত্রার প্যান্ডেলে জনপ্রতি চেয়ার ৬শ’থেকে ৮শ’টাকা মাটি ২০০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যাত্রা ও জুয়ার বোর্ড থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে ক্ষমতাবানরা। এর মধ্যে পুলিশ, প্রশাসন, স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি , জেলা পরিষদের সদস্য চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল বাটোয়ারা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিনিময়ে দিচ্ছেন প্রকাশ্যে অবাধে জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের আসর চালানোর সুবিধা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মেলায় নিয়ম মেনে যাত্রা পালা চলছে কোন অশ্লীলতা হচ্ছে না। তাকে মেলায় ধরনকৃত অশ্লীল নৃত্যের ভিডিও দেখানো হলে সাংবাদিকের উপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন জেলা প্রশাসন জেনে বুঝে মেলার অনুমতি দিয়েছে। এখানে অশ্লীলতার কিছু নেই।
আয়োজক মেলা কমিটির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, আমরা রবিন্দ্র ভক্ত। রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করেছি, যেখানে রবীন্দ্র ভক্তরা সহ সকলেই এসে বিনোদন উপভোগ করতে পারবে। মেলা মানে একটু অনিয়ম থাকবেই। তিনি দাবি করেন, মেলায় এসে কিশোর-যুবকরা আনন্দ করবে। না হলে তারা কিশোর গ্যাং হয়ে যাবে।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুর রহমান সরকার বলেন, যাত্রায় অশ্লীলতার বিষয়ে জানতেপেরে তাৎক্ষণিক ভাবে বন্ধ করে দিয়েছি।
জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

