
টাঙ্গাইলে ফ্ল্যাট বাড়িতে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি ! ইউরোপের ভিসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা–সরকারের রাজস্ব ফাঁকি !
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলে ফ্লাট বাড়িতে একটি অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি খুলে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারক চক্র। ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি পাঠাবে বলে টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন এলাকার বেকার যুবকদের আশান্বিত করেন। প্রতারক মাজহারুল ইসলাম স্বপন। তার ছেলে ইউরোপে থাকে বলে এলাকার মানুষ সহজে তার কথা বিশ্বাস করে ফেলে। জনপ্রতি চুক্তি হয় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে ১৬জন যুবক হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা প্রাথমিকভাবে স্বপনকে প্রদান করেন। বাকি টাকা ভিসা এবং বিমানের টিকিট পাওয়ার পর পরিশোধ করবেন বলে সম্মতি হন দু’পক্ষ। কিন্তু বাস্তবতা হলো ১৬ জনের একজনও হাঙ্গেরি যেতে পারে নাই। ভুক্তভোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মনি, সাফি, হুমায়ূন কবির, শাওন, আরিফ, সাহেদ ও দর্পণ। বাকিদের নাম এখনও জানাযায়নি। অনুসন্ধান চলছে হবে পরবর্তী জানাযাবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, মাজহারুল ইসলাম স্বপন মীরের বেতকা এলাকাকে ইউরোপ বানিয়ে ফেলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকাবাসীর মন জয় করেন। ছেলে জার্মানিতে থাকে বলে এলাকাবাসীও তার কথা খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলে। ছেলের সাথে এলাকাবাসীকে বিদেশ যাওয়ার আসক্ত করার জন্য মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে ছেলের সাথে এলাকার যুবক ছেলে বিদেশ নিবে এই প্রতিশ্রুতি একটা সখ্যতা তৈরি করে। বাবা ছেলে মিলে এলাকাবাসীকে বিদেশ নেওয়ার নামে একটি প্রতারক ফাঁদ সৃষ্টি করে ।এলাকার সহজ সরল লোক অতীত সহজে বিশ্বাস করে। স্বপনকে বিনা ডকুমেন্ট এর লক্ষ লক্ষ টাকা দেয়। আমাদের প্রতিনিধিরে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে ও জানতে পারে তার বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসাটি প্রথমত মীরের বেতকা এলাকায় অফিস বানিয়ে শুরু করে,সঠিক সময়ে বিদেশে লোক না নিয়ে ভিসা ব্যবস্থা না করতে পেরে এলাকার মানুষ ও শহরের লোকজনের তোপের মুখে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবার গন একযোগে টাকা ফেরত নেয়ার জন্য চাপ দিলে, স্বপন এলাকা ছেড়ে গোপনে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোডে একটা ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে পুনরায় সাইনবোর্ড বিহীন গোপনে আদম ব্যবসা শুরু করে। ভুক্তভোগী পরিবারেরা জানান তার কাছে এখন অনেক টাকা, তার অনেক লোকজন হয়েছে, ছেলে জার্মানিতে থাকে। আমরা পাওনা টাকা চাইতে সাহস পাই না। আজ বিদেশ পাঠাবে কাল পাঠাবে এই মিথ্যা আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকি। ভুক্তভোগী পরিবারের দুই একজন বলেন। সুদকরে টাকা নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রায় দুই বছর ঘোড়া ঘুড়ি করেছি, ছয় লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম, খরচাপাতি বাদ দিয়ে ৪ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে এমন পরিবারের বক্তব্য রয়েছে। এভাবে বহুৎ পরিবারকে তিনি বিদেশ নেওয়ার নামে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, গ্রাম থেকে শহরে অফিস করেছে।টাংগাইল শহরে আলিশান ফ্লাট রয়েছে, ঢাকায়ও ফ্লাট ক্রয় করেছে। প্রিমিও প্রাইভেট কারে ব্যবহার করেন। এসব আমাদের মত আদমের টাকা। আর এই ম্যানপাওয়ার অফিসে নেই কোন সাইনবোর্ড, ট্টেড লাইসেন্স এদিকে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। অন্যদিকে ইনকাম ট্যাক্স এর কোন ফাইল পত্র নেই। আগে ছিল টাঙ্গাইলে পাঁচআনী বাজারে হোমিও প্যাথিক হাতুরে ডাক্তার।এখন আদম বেপারী অফিস খুলে স্বপন এখন আংগুল ফুলে কলা গাছ ! বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের আমলে এই অবৈধ আদম বেপারির অফিস। বিদেশে পাঠানোর নামে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত মাজহারুল ইসলাম স্বপনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত গতিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগী পরিবারের টাকা ফিরত পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য আদম বেপারী স্বপন তার সঙ্গ পঙ্গের ভয়ে পাওনা টাকা ফেরৎ চাইতেও ভয় পান ভুক্তভোগী পরিবার তিনারা আরো বলেন যার ক্ষমতা আছে লোক আছে তারা ঠিকই টাকা ফেরত পাইতেছে।