
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলায় একদিকে নাউতারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে বসতবাড়ি ও গাছপালা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে ফেলছে জিওব্যাগ, অন্যদিকে ঠিক তার অপর পাড়ে চলছে অবাধে নদীর পাড় ও চর কেটে বালু নিয়ে যাওয়ার মহোৎসব। নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় দিনদুপুরে প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কার্যক্রমে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বটতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নাউতারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকার দৃশ্যমান পাড় ও চর কেটে একাধিক ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হরহামেশাই। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ট্রলি মালিক প্রভাব খাটিয়ে নদীর ধারের আবাদি জমির ফসল নষ্ট করে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরি করেছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে উত্তোলন করা বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, কিছু জমির মালিক টাকার বিনিময়ে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে সাময়িক পথ তৈরি করে দিচ্ছেন। আর এই সুযোগে বালু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে নদীর পাড় ও চরের মাটি-বালু কেটে সাবাড় করছেন। শুধু নদী ভাঙনের ঝুঁকিই নয়, অবৈধ এসব ট্রলির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। চালকদের বেপরোয়া গতি ও বিকট শব্দে গ্রামীণ রাস্তায় চলাচলা করাই দায় হয়ে পড়েছে। বালুবোঝাই ভারী ট্রলির চাকার পিষ্টে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলোতে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় স্কুলছাত্র সেলিম বলে, “ভোররাত থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব গাড়ি বিকট শব্দে চলাচল করে। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় আমাদের খুব ভয় করে, কখন যেন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়।” নদী ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়া, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ধ্বংসের হাত থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, নদীর পাড় বা চর কেটে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি নদীর পাড় বা চর কেটে বালু নিয়ে যাচ্ছে এমন হলে আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।