
রাবি প্রতিনিধি
মসজিদ আল্লাহর ঘর। পৃথিবীর সর্বোত্তম স্থান। এখানে দৈনিক পাঁচবার সালাত আদায়ের জন্য মুসলমানগণ মিলিত হন। মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়; বরং তা সামাজিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা স্থাপনে অসামান্য অবদান রাখে। পৃথিবীতে অনেক অনিন্দ্য সুন্দর মসজিদ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম আল হারাম মসজিদ,শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ,আয়া সোফিয়া মসজিদ ইত্যাদি। আজকে কথা বলবো তেমন একটি সুন্দর মসজিদ নিয়ে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান ফটক পেরোলেই দেখা মিলবে সামনে প্রশাসনিক ভবন। এ ভবনের ডান দিকে সামনে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়বে মুসলিম স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা সুউচ্চ মিনার। মসজিদের সৌন্দর্য্যকে আরো বাড়াতে চতুর্দিকে স্থাপন করা হয়েছে লাইটপোস্ট। নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনাও। সব থেকে আকর্ষণীয় দিক হলো সুবিশাল অভ্যন্তরীণ এই মসজিদের জায়গায় নেই কোনো পিলার। মূল কাঠামোর মধ্যবর্তী স্থানে ওপরের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার গম্বুজ। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। অসাধারণ নির্মাণশৈলী ও নান্দনিকতায় রাজশাহীতে অনন্য এই মসজিদ, যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য-শোভাকে বাড়িয়ে সূচনা করেছে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রায় তিন একর জায়গায় এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৫২ গজ ও প্রস্থ ৫২ গজ। তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের নকশাপ্রণেতা ‘থারিয়ানির’ নকশার আলোকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটির নির্মাণ ব্যায় তৎকালীন ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় আট লাখ টাকা। মসজিদের বারান্দা ও বারান্দার বাইরের যে অংশ রয়েছে তা মূল কাঠামোর প্রায় দ্বিগুণ। মূল ভবনের অভ্যন্তরে ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০০ মুসল্লি। তবে বাইরের ফাঁকা জায়গাসহ এই মসজিদে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদের আঙিনাকে মূল ক্যাম্পাস থেকে পৃথক ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য চারপাশে আছে দেয়াল। আঙিনাজুড়ে রয়েছে সারিবদ্ধ ঝাউগাছ। দক্ষিণ পাশে ফোয়ারা, অজুখানা, অফিসরুম ও শৌচাগার। দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে ইমামের বাংলো। এ ছাড়া রয়েছে হরেক রকমের ফলের গাছ ও ঈদগাহ। শ্বেত-শুভ্র ঝাড়বাতিগুলো এতই মনোরম যে নির্মাণের প্রতিটি স্তরের সঙ্গেই তা একবারে মিশে গেছে। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা জামাল উদ্দিন। মসজিদের একজন সিনিয়র পেশ ইমাম ও একজন মুয়াজ্জিন আছেন। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের তত্ত্বাবধানের জন্য দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও একজন সেকশন অফিসার রয়েছেন। মসজিদের অজুখানার পাশেই রয়েছে সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাঠাগারটি মুসল্লিদের জন্য আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকে।
এ ছাড়াও এখানে শৌচাগার ও অযুর জন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে তা মুসল্লিদের জন্য অপ্রতুল। শৌচাগারগুলোর অধিকংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। অযুখানায় মাত্র ৪২ জন একসঙ্গে অযু করতে পারে। এই সময় দ্বিগুন মুসল্লিদেরকে অযু করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যার ফলে মুসল্লিরা জামায়াত নামায পড়তে পারেন না। এই জন্য মসজিদে ফোয়ারার চারপাশে অযুর করার ব্যবস্থা করলে সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে জানান তারা।
একই সঙ্গে মসজিদ পাঠাগারটিকে আরো সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে উন্নীতি করাসহ অধ্যায়নের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও যুগপযোগি করার দাবি মসজিদের ইমামের। এদিকে মসজিদের পাঠাগারটি আসরের নামাযের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকলেও জোহরের নামাযের থেকে এশার নামাযের পূর্ব পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি মুসল্লিদের।
এছাড়া জুম্মার নামাজে অতিরিক্ত মুসল্লিদের চাপে বারন্দায় যারা নামাজ আদায় তাদেরকে রোদে কষ্ট করে নামাজ আদায় করে। এক্ষেত্রে যদি বারন্দায় ছাদের নির্মাণ করা হয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন মুসল্লিরা।