
লোহাগড়া নড়াইল প্রতিনিধি :
আসন্ন ঈদুল আযহা ২০২৬ উপলক্ষে নড়াইল জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার গবাদিপশু। জেলার মোট চাহিদা ৩৯ হাজার ৪১৬টি পশু হলেও স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৪১৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১২ হাজার ২৭৫টি পশু। এ উপজেলায় চাহিদা রয়েছে ১১ হাজার ৩৫৫টি পশুর। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে ৯২০টি পশু।
অন্যদিকে লোহাগড়া উপজেলায় ১৬ হাজার ৩২৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে চাহিদা ১৪ হাজার ১৪৮টি। এ উপজেলায় উদ্বৃত্ত থাকবে ২ হাজার ১৭৭টি পশু। এছাড়া কালিয়া উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ১০ হাজার ২৩৫টি পশু। চাহিদা ৮ হাজার ৩৩২টি হওয়ায় সেখানে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১ হাজার ৯০৩টি পশু।
গৃহস্থালি পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় খামারিরা গরু ও ছাগল লালন-পালন করেছেন। ইতোমধ্যে জেলার সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার ১০টি পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা জমে উঠতে শুরু করেছে।
সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামের খামারি মিল্টন হোসেন, কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের হিমু শেখ ও হাড়িয়াগোপ গ্রামের রবিউল ইসলামসহ একাধিক বিক্রেতা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরু ও ছাগলের দাম কিছুটা কম।
তাদের ভাষ্য, গত বছর যে ষাঁড় এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই একই ধরনের ষাঁড়ের দাম ক্রেতারা বলছেন ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। একইভাবে বড় আকারের ছাগলের দামও কমেছে। গত বছর যে ছাগল ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার তার দাম উঠছে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে।
তবে সাশ্রয়ী মূল্যের আশায় স্থানীয় ক্রেতারা এখনো অপেক্ষা করছেন বলে জানান বিক্রেতারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক বলেন, জেলার খামার ও গৃহস্থালি পর্যায়ে স্বাভাবিক খাবার ব্যবহার করে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে ১০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে।