
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
পলি জমে নদী শুকিয়ে যাওয়া আর বর্ষায় আচমকা উগ্র রূপ নেওয়া—এ যেন নাউতারা নদীর চিরচেনা রূপ। কিন্তু এই নদীর বুকভাঙা ঢেউ ও স্রোত যে একজনের সারা জীবনের স্বপ্ন আর শেষ সম্বলটুকু এক নিমিষে কেড়ে নেবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি লালচান। ভিটেমাটির সবটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি নিঃস্ব, দিশেহারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আকাশ কুড়িগ্রামে আনন্দ বাজারের দক্ষিণে ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী লালচান মিয়ার একমাত্র শেষ সম্বল ভিটেমাটি ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নাউতারা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্রোতের তীব্রতায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা আবাদি জমি ও বসতবাড়ি রেহাই পাচ্ছনা নদীর ধারে বেড়ে ওঠা গাছপালাসহ বাঁশঝাড়। সেই ভাঙনের নির্মম শিকার হয়েছেন লালচান মিয়া।শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। নদীর ভয়াল থাবায় একে একে বিলীন হয়ে গেছে তাঁর উঠান ও বিভিন্ন ফলন্ত গাছ এছাড়া ভাঙনের হুমকিতে বসতঘরসহ ছোট্ট উঠানটুকু।
অশ্রুসজল চোখে লালচান বলেন, “সারা জীবনের জমানো আয় আর ঘাম ঝরানো শ্রমে এই ভিটেটুকু তৈরি করেছিলাম। নদী আমার সব শেষ করে দিল। এখন দাঁড়ানোর মতো আর এক ইঞ্চি জমিও আমার নেই। এখন অবশিষ্ঠ শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু রক্ষা করতে না পারলে পরিবার নিয়ে কোথায় উঠব, কী খাব—তা জানি না।খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।
নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি জানান, নদীতে ভিটেমাটি ও গাছপালা ভেঙে পড়েছে আমাকে জানিয়েছে। নদী ভাঙনরোধের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমি সেখানে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে ব্যবস্হা নেওয়ার অনুরোধ জানাবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানান, নদীতে বসতভিটা, গাছপালা ভেঙে যাচ্চে এমন হলে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে নদী ভাঙনরোধে ও বসতভিটা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর মতে, নাউতারা নদীর এই ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত স্থায়ী জিও ব্যাগ বা টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে লালচানের মতো আরও বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত লালচানের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা এবং নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।