
নাজিরপুর সংবাদদাতা
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের হাসিতে ভরে উঠেছে মাঠগুলো। অধিক লাভের আশায় গত কয়েক বছর উপজেলায় কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রদর্শনী প্লট ও ব্যক্তি উদ্যোগে সুর্যমুখীর আবাদ করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের ভালো ফলনের আশা করছেন। সুর্যমুখী শুধু একটি ফসলই নয়, জমিতে এসে অনেক মানুষ ফুলের সৌন্দর্যে বিনোদিতও হচ্ছেন।
সূর্যমুখী ফুলচাষি উপজেলার মাটিভাংগা ইউনিয়নের পশ্চিমবানিয়ারী গ্রামের চাষি সোহেল শিকদার বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে বীজ পেয়ে ও তাদের সহযোগিতায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। খরচ পড়েছে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে অধিকাংশ গাছেই ফুল ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকালে সুর্যমুখীর বাম্পার ফলনের আশা করছি।’
ব্যক্তি উদ্যোগে আবাদ করা সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ষোলষত গ্রামের মোঃ আকমান গাজী বলেন, ‘আমি পরীক্ষামূলক ২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। গাছে ভালোই ফুল ফুটেছে। খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। ৮-১০ মণ ফলন পাওয়ার আশা করছি। বর্তমান বাজার দামে ২০-২৫ হাজার টাকার বীজ বিক্রির আশা করছি। তিনি আরও জানান, জমিতে এসে অনেক মানুষ ফুলের সৌরভে বিনোদনও নিচ্ছে। আবার অনেকে পরিবার সদস্যদের নিয়ে সূর্যমুখি ফুলের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলে আনন্দ উপভোগ করছেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাতুন্নেসা এশা জানান, ‘সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তেল উৎপন্ন হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে এবং ৩ মেট্রিক টন বিজ পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আমরা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বীজ ও সার প্রণোদনা দিয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এটি একটি অধিক লাভজনক ফসল। কৃষকরা ধানসহ অন্য ফসলের পাশাপাশি এই সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে অধিক লাভবান হবেন।’