
নিজস্ব প্রতিবেদক:পাগলদের নিয়ে সাবেক এমপি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের (ভিপি জোয়াহের) ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন বাসা জবরদখল করেন সমন্বয়ক পরিচয়ে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি।
এ ব্যাপারে জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রী রউশন আরা বলেন টাঙ্গাইলের ছাত্র প্রতিনিধি ও সমন্বয়ক পরিচয়ে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি নামে এক মেয়ে আমাদের কাছে প্রথমে ১০ কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিল। সেই টাকা না দেওয়ায় তারা বাড়ি জবরদখল করে। আমি এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করব।
রউশন আরা আরও বলেন, বাড়িটি আমার নামে, আমার স্বামীর নামে নয়। আমি এ ঘটনায় সঠিক বিচারের দাবি করছি।
গতকাল শনিবার (০৮ মার্চ) সন্ধ্যায় তার নিজ বাসা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান তিনি।
এর আগে সকালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র প্রতিনিধি ও সমন্বয়ক পরিচয়ে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিস্টি জোয়াহেরুল ইসলামের বাসার তালা ভেঙে প্রায় ২০ জন পাগল নিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। এতে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্হানীয় বাসিন্দারা বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। এতে নড়চড়ে বসে প্রশাসন।
এদিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পৌর শহরের ছোট কালিবাড়ীতে অবস্থিত ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনটি যৌথবাহিনীর অভিযানে দখলমুক্ত করা হয়। এতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিমনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন শরিফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিমনার (ভূমি) রুহুল আমিন শরিফ বলেন, দখল হওয়া বাসাটি যৌথবাহিনীর অভিযানে বাসাটি দখল মুক্ত করা হয় এবং সেখানে রাখা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে পূর্বের জায়গায় পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) স্বপরিবারে আত্মগোপনে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের (ভিপি জোয়াহের) বাসায় প্রবেশ করে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়।