
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইল শহরে প্রশাসনের উদাসীনতা ও দুর্নীতির সুযোগে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ চলছে দেদারসে। পৌর প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে বহুতল ভবন, দখল হচ্ছে সরকারি জায়গা ও রাস্তাঘাট।
অনুসন্ধানে জানা যায়,পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক সমাজের নেতারা। তাদের মতে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এসব অনিয়মের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় নির্দেশনা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে। টাঙ্গাইলের শহরের সাবালিয়ার একতা টাওয়ার কাগজ কলমে ১৩ তলা অনুমোদন থাকলেও তা ১৮ তলা তৈরি হয়েছে। এছাড়া নকশার বাহিরে ৪০ হাজার স্কয়ার ফিট বাড়ানো হয়েছে।এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোন সমাধান পায়নি এলাকাবাসী। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অভিযোগকারী হিরন মিয়া বলেন, আমি একতা টাওয়ার অবৈধ ভাবে নির্মাণে বাঁধা দেওয়ায় তারা ক্ষমতা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা তুলে নিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। এরপর আমি আর প্রতিবাদ করতে পারি নাই। এখন বর্তমান সরকার সুষ্ঠু তদন্ত করবে বলে আশাবাদী হয়ে এবারও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নগর-পরিকল্পনা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, বিগত সময়ে কিভাবে হয়েছে জানা নেই। তিনও শুনালেন নতুন পরিপত্রের কথা। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিলেন। এও বললেন বর্তমানে পৌরসভা থেকে ১০ তলা ভবনের অনুমতি দেওয়া যাবে।
কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্রই দেখা যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন এখনো সচল। এমনকি কিছু ভবন সরকারি জায়গা দখল করে রাস্তাতেও উঠে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শাহেদ আলী নামে এক জন বলেন,শহরের বিভিন্ন এলাকা রয়েছে যে এলাকায় যদি আগুন ধরে এম্বুলেন্স প্রবেশ করার রাস্তা নাই অথচ ৫/৭ তালা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। কোথাও বিল্ডিং কোড মেনে ভবন তৈরি হচ্ছে না।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, সরকারের খোঁজ নিয়ে দেখা উচিত এই ভবন অনুমোদনের জন্য কোন কোন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে? তারা যদি সঠিক ভাবে কাজ করে থাকে তাহলে অবৈধ ভাবে নির্মাণ হবে না।সরকারের উচিত এই বিল্ডিং গুলোর দিকে নজর দেওয়া।
টাঙ্গাইল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন,অনুমতি ছাড়া যে সমস্ত ভবন তৈরি হচ্ছে সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লিখিত কিছু অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করা হচ্ছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএসআরএম বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.এ এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, সড়ক ও মহাসড়ক ঘেঁষে সরকারি জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও কোনো ফল হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের লোকদেখানো নির্দেশনাই বাস্তবায়ন হচ্ছে। দিন দিন হিটের শহরে পরিণত হচ্ছে।
একতা টাওয়ারের পক্ষে থেকে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা অনুমোদন নিয়ে ভবন তৈরি করেছি।কোন প্রকার অবৈধ স্থাপনা করি নাই।
সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই টাঙ্গাইল শহরের নান্দনিকতা নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তারা দ্রুত দুর্নীতি তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।