
মোহাম্মদ আব্দুন নুর রানা | সিনিয়র রিপোর্টার
ফরিদপুর জেলা শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং রেলওয়ে বস্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃতদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন, যাদের পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত
শনিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত মেজর রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি চৌকস দল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন ২ নং কুঠিবাড়ি রেলওয়ে বস্তি এবং শহরের একাধিক আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক নির্মূল এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ও দণ্ডাদেশ
অভিযান চলাকালে হোটেলগুলো থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে শিমু, অঞ্জনা, তামান্না, মথুরা রানী মন্ডল, রুনা বেগম, শারমিন আক্তারসহ ৯ জন নারীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের ফরিদপুর সার্কিট হাউসে আনা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে ৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে লিটন হোসেন, শাকিল আলম, শরিফ আবিদ হোসেন দিনারসহ মোট ১১ জন পুরুষকে আটক করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান তাদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহরের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।