
লিমন হায়দারঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিপথগামী স্ত্রীর একাধিক ষড়যন্ত্র ও
বানোয়াট-ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের শিকার স্বামীর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।মূলতঃ প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ষড়যন্ত্রের শিকার স্বামী দেলোয়ার হোসেন মামুন।
তিনি দাবি করেছেন,তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা,ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এক লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান,দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুলবাড়ীতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন
সুপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে
সুখ্যাতি আছে।কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য ও মনগড়া অভিযোগ তুলে ধরেন তার স্ত্রী মিনারা পারভীন।যাতে তার সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন,আমার স্ত্রী ওই সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন,আমি একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি।
এই বিষয়ে আমার বক্তব্য
আমি কোনভাবেই এবং কখনোই মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না এবং এখনো নই।আমার মাদকাসক্তের অভিযোগের বিপরীতে রংপুরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমার শরীরে কোন ধরনের মাদকের অভ্যাস ও অস্তিত্ব পায়নি উল্লেখ করে সার্টিফিকেট প্রদান করেছে। আমি সকাল থেকে রাত অব্দি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে, কোনভাবেই আমার পক্ষে মাদকে জড়ানো ও পরনারীকে সময় দেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। আমার বিপথগামী স্ত্রী মিনারা পারভীনকে এমন বানোয়াট বিষয়ে কুবুদ্ধি দেয়ার জন্য,আমার করা মামলার দুই নম্বর আসামী ফুলবাড়ীর এনসিপি নেতা জাকির হোসেন ব্যাপকভাবে প্রলুব্ধ ও উৎসাহ প্রদান করেছে।জাকির হোসেন- আমাকে ও মিনারা পারভীনকে নিয়ে বিভিন্ন রকমের পোস্ট দিয়ে আমাকে সামাজিক ও ব্যবসায়ীক ভাবে মান-সম্মান হানি করেছে বলে আমি মনে করি।
আমার স্ত্রী মিনারা পারভীন লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করে যে.আমি নিয়মিত নির্যাতন ও শারীরিকভাবে মারধর করি। এই অভিযোগটি কোন ভাবেই সঠিক নয়।আমার দীর্ঘ দুই যুগের সাংসারিক জীবনে যদি তাকে নির্যাতন করতামই বা করেই থাকি, তাহলে সে এই সংক্রান্তে কোন অভিযোগ স্থানীয় প্রতিনিধি,থানা কিংবা আদালতের কাছে অভিযোগ করেনি কেন?সে আরো উল্লেখ করেছে,আমার কন্যা সন্তানকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করি এবং তাদেরকে কোন প্রকার ভরণপোষণ দেই না।এটিও সম্পূর্ণ হাস্যকর ও অবাস্তব একটি অভিযোগ।আমার সন্তানদেরকে আমি আমার প্রাণের চেয়েও ভালোবাসি। আমার সন্তানদেরকে আমি তাদের চাহিদামত যথেষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করি এবং আমার মেয়ের বে-সরকারি মেডিকেলে লেখাপড়া বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করেছি।যার ব্যাংক ডকুমেন্ট আমার কাছে রয়েছে।মিনারা পারভীন আমার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করেন যে, সে অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ভালো করার জন্য।এটিও হাস্যকর!আসলে সে নিজেই পথভ্রষ্ট একজন মহিলা।সে গত ২ বছর ২ মাস পূর্বে আমার বাসা হতে ব্যবসায়ীক কাজে রাখা ৫০ লক্ষ টাকা ও ২০ ভরি সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।সে তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগে করে যে,সে আমার বিরুদ্ধে প্রায় ৮মাস পূর্বে নারী নির্যাতন মামলা করে সেটিও কিন্তু সম্পূর্ণ রুপে মিথ্যা।
উল্টো বিপুল অংকের টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যাবার পরে নিজেকে রক্ষার জন্য পালিয়ে যাবার প্রায় ১বছর ৬ মাস পরে ১টি যৌতুকের মামলা করে।সে তার ঐ সংবাদ সম্মেলনে নিজেই স্বীকার করে বক্তব্য দেয় যে, আমার সাথে তার ২ বছর ২মাস থেকে কোন প্রকার যোগাযোগ নেই।সেক্ষেত্রে কোন আইনে সে নারী নির্যাতন মামলা করেছে বলে-মিথ্যাচার করছে? কারণ,২ বছর ২মাস তো আমার সংসারেই সে ছিল না।তাহলে নারী নির্যাতন করলাম কখন?মামলাটি আসলে ছিল যৌতুক মামলা।
এবার আসি লমহোর্ষক ঘটনায়!গত ২৬.০৩.২৬ তারিখ রাতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে আমার পথরোধ করে বানোয়াট-ভিত্তিহীন অভিযোগকারী মিনারা পারভীনের ভাই,বহুল পরিচিত চাঁদাবাজ ও নেশাগ্রস্ত জাহাঙ্গীর হাসান মিলন,ওরফে বোতল মিলন এবং সাংবাদিক নামধারী ও এনসিপি’র নেতা পরিচয় দানকারী জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল আমাকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মারধর করে ও অপহরণের উদ্দেশ্যে আমার বাসার সামনে থেকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
এ সংক্রান্তে একটি মামলা ফুলবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছে।আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেনের বাবা ও তার ছোট ভাই সহ সংবাদ কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।