বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :
বগুড়া (২৬) জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় আব্দুল মমিন নামের একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মোমিন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আজ মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ির শয়ন ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আব্দুল মোমিন এর দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানা বেগম জানান,আমার স্বামী আব্দুল মোমিন খন্দকার ঠাকুরগাঁও ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার পদে কর্মরত ছিলো। তার বড় ভাই ও জয়পুরহাট সদর ফায়ার স্টেশনের ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিন মিজান বাবার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেয়। এর প্রতিবাদ করলে সে আমার স্বামীকে রংপুর দিনাজপুর চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন যায়গায় আটকে রেখে নির্যাতন করে। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে বিভিন্ন মাদকাসক্ত কেন্দ্রে রাখে। এক পর্যায়ে মিজানের জয়পুরহাটের বাসায় তাকে আটক রাখলে আমি সংবাদ পেয়ে সেখানে যাই।
আমার স্বামী আটক অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেছে আমার ভাই আমাকে জোড় করে বিভিন্ন রকম মেডিসিন খাওয়াচ্ছে। শরীরে ইনজেকশন পুশ করছে। এসময় র্যাব এসে আমার স্বামীকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে বাড়ি নিয়ে এসে সোমবার রাতে গলায় রশি বেধে শ্বাস রোধে তাকে হত্যা করে। এ ব্যাপারে আমি মামলা করবো।
এদিকে, মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আশিক ইকবাল বলেছেন, আব্দুল মোমিন এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই জানা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা। তখন সে অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাটের একটি আবদ্ধ ঘর থেকে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আব্দুল মোমিনকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আব্দুল মোমিনকে জিম্মায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন তার পিতা। সে সময় রেকর্ডকৃত ভিডিওতে আব্দুল মোমিন আশংকা করে বলেছিলেন, তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করা হতে পারে।
