
লাইফস্টাইল ডেস্ক
একে অফিসে কাজের চাপ, তার ওপর অতিরিক্ত চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও সম্পর্কে টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে যেন তালগোল পাকিয়ে গেছে। সারাদিন ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটে। রাতেও ঠিকমতো ঘুম হয় না। আত্মবিশ্বাস ক্রমাগত দিন দিন নিচের দিকে নামছে।
উদ্বেগ, অবসাদ, হতাশা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। মেজাজ সারাক্ষণ খিটখিটে হয়ে আছে। চোখ-মুখ বসে গেছে, একদম জেল্লা নেই। শরীরেও ক্লান্তি-দুর্বলতা ডেকে আনছে। আর ত্বক ও চুলের ওপর যে প্রভাব ফেলছে তা বলে বোঝানো যাবে না।
স্পষ্ট বোঝা যায়, অত্যধিক মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। মনের ওপর চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব ত্বকেও পড়ে। অত্যধিক স্ট্রেসে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে যায়। বদলায় অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যও। শরীরজুড়ে বাড়ে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন। শরীরের অন্যান্য অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ত্বকেই সবার আগে বদলগুলো ধরা পড়ে।
ত্বক ও চুলের সমস্যা কমাতে হলে মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর জন্য রাশ টানতে হবে লাইফস্টাইলে। খাওয়াদাওয়া ও শরীরচর্চার দিকে নজর দিন। দরকার পর্যাপ্ত ঘুমও। যে কাজ মনকে ভালো রাখে, সেগুলো করুন। প্রয়োজনে মনোবিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, যেভাবে মানসিক চাপ কমাবেন—
ত্বক অকালে বুড়িয়ে যায়
এমন অনেকেই আছেন, যাদের বয়স ২৫ কিন্তু দেখতে লাগে ৩৫। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ত্বকের সৌন্দর্য কেড়ে নিয়েছে। যত বেশি স্ট্রেস নেবেন, ত্বকে ভিড় করবে বলিরেখা। ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় কালো ছোপ তৈরি হয়। মেছতার দাগ পড়তে থাকে। সময়ের আগেই হানা দেয় বার্ধক্য। সাধারণত এটি ৪০ ঊর্ধ্ব নারীর গালে, কপালে বা চিবুকে বাদামি/কালো ছোপ হিসেবে দেখা দেয়। এ সমস্যা অ্যান্টি-এজিং ক্রিম মেখে দূর করা সম্ভব নয়।
শুষ্ক ও খসখসে ত্বক
আর মানসিক চাপ যত বাড়তে থাকে, তত ত্বক তার জৌলুস হারাতে থাকে। ত্বকের মসৃণ ভাব একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ত্বক শুকিয়ে যায় এবং খসখসে হয়ে ওঠে। অনেক সময়ে ত্বক থেকে মাছের আঁশের মতো খোসা উঠতে থাকে। এ অবস্থাকে সোরিয়াসিস বলা হয়। আবার অনেক সময়ে মুখ ভরে যায় ব্রণে।
চুল পড়া
হাজার নামিদামি শ্যাম্পু-তেল মেখেও যদি চুল পড়া না কমে, তা হলে সাবধান হতে হবে। এর পেছনে অত্যধিক স্ট্রেস দায়ী। মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে লাগাতার চুল পড়া এবং অকালপক্বতার সমস্যা বাড়ে। তাই স্ট্রেসকে হালকাভাবে নেবেন না।
ডার্ক সার্কেল
কম ঘুম, অত্যধিক স্ট্রেস, হরমোনের ওঠানামা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস— এসবের জেরেই চোখের নিচে কালো ছোপ পড়ে। খেয়াল করে দেখবেন, বহু কম বয়সির চোখের তলায় ডার্ক সার্কেল রয়েছে। এটা বয়সজনিত কারণে হয় না। বরং শরীরের অযত্নের জেরে দেখা দেয়। মানসিক চাপ ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন ভেঙে দেয়। তখন ত্বকের এসব সমস্যা প্রকট হয়।