আল ইমরান বেল্লাল
নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি
ভাসমান বাজারের জন্য এশিয়ার মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ বেশ জনপ্রিয়। সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম তেমন না আসলেও নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে বেশ কয়েকটি জায়গায়ই দেখা পাওয়া যায় ভাসমান বাজার বা ফ্লোটিং মার্কেট এর। ভাসমান বাজারের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই বাজারের মূল কেনাকাটা হয় নৌকাতে ভেসে ভেসে।
বাংলাদেশের ভাসমান বাজারগুলোর মধ্যে স্বরূপকাঠীর আটঘর কুরিয়ানা আর ঝালকাঠীর ভিমরুলির নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। ঢাকা থেকে এক রাত একদিনের মধ্যেই চমৎকারভাবে ঘুরে আসা যায় বিধায় এগুলো ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। সাধারণত পেয়ারার মরসুমে, অর্থাৎ জুলাই-অগস্ট মাসে বাজার সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে। আসছে সামনে জুলাই মাস পেয়ারার মরসুম, ঘুরে আসুন আনন্দ করুন।
কিভাবে ঢাকা থেকে ঘুরে আসতে পারবেন এই বাজারগুলো তা নিয়েই আজকের এই লেখা। তার সাথে থাকছে আপনার এই ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করে তোলার জন্য বেশকিছু টিপস।
যেভাবে যাবেন
১। সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ি, গুলিস্তান থেকে বেশকিছু গাড়ি ছেড়ে আসে সরুপকাঠীতে। আপনাদের সুবিধার জন্য কিছু গাড়ির নাম দিয়ে দিলাম – লাবিবা, ইমরান, সুগন্ধা, সুর্যমুখি, হানিফ, সাকুরা, মোল্লা, বিআরটিসি, তাজ আনন্দ, মেঘনা, ঈগল, রোমেরা। আরও বেশ কিছু গাড়ি পাওয়া যায় ঢাকা থেকে সরুপকাঠী আসতে হানিফ ও সাকুরা ৩.৩০ মিনিটের ভিতর চলে আসে বাকিগুলো চার ঘন্টার মত সময় লাগে। ভাড়া ৫০০-৬০০ টাকা ভিতর। সরুপকাঠী থেকে মাহিন্দ্রা, লেগুনা (লোকাল নামঃ ম্যাজিক গাড়ি), এলপিজি চালিত অটোরিক্সায় চড়ে আটঘর বাজার নৌকা ঘাট ।
আটঘর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর সামনে, বরিশাল-আটঘর-স্বরূপকাঠি সড়কের পাশেই এই ঘাট। এখান থেকে পেয়ারাবাগান ও ভাসমান বাজার ভ্রমণের জন্য নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করা যায়। নৌকার ভাড়া ৮০০ টাকা, ৫-৬ ঘণ্টা ঘুরিয়ে থাকে। ট্রলারের ভাড়া ১৫০০ টাকা, ৩-৪ ঘণ্টা ঘুরিয়ে থাকে। নৌকায় ৮ জন ওঠা যায়, ট্রলারে ২০-২৫ জন।
২। সদরঘাট থেকে বরিশালের লঞ্চে উঠে ভোরে চলে যান বরিশাল। ডেকের ভাড়া ২০০-২৫০ রাখবে। লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বের হয়ে রিকশা বা অটোতে করে নথুল্লাবাদ। রিকশায় ৫০ টাকা আর অটোতে প্রতিজন ২০ টাকা করে নেবে। নথুল্লাবাদ থেকে বানারীপাড়ার বাস ছেড়ে যায় একটু পরপরই, ভাড়া ৪০ টাকা। বানারীপাড়া পৌঁছে রিকশা বা অটোতে করে পৌঁছে যান বানারীপাড়া লঞ্চঘাটে। রিকশাভাড়া ২০ টাকা।
লঞ্চঘাটে তো পৌঁছে গেলেন। এরপর? লঞ্চঘাটে অনেক ট্রলার বাঁধা দেখতে পাবেন। আর আশেপাশে চালকরাও থাকবে। দরাদরি করে নিন পাঁচ থেকে সাত ঘন্টার জন্য। বলবেন আটঘর কুরিয়ানা বাজার আর ভিমরুলি বাজার ঘুরিয়ে আনতে। ১৩০০-১৫০০ টাকার মাঝে পেয়ে যাবেন যদি দরাদরি করতে পারেন। এক ট্রলারে ১২-১৫ জন অনায়াসে বসতে পারবেন।
ভাসমান বাজারে যাওয়া আসার পথের কিছুটা দৃশ্য দেখে ফেলুন। ভালোই লাগবে।
পেয়ারা বাজার দেখা শেষ হয়ে যাবে দুপুরের মাঝেই। আর ঘুরতে ইচ্ছে না হলে গাড়িতে উঠে ঢাকা দিনের ভিতরে। যদি রাতের গাড়িতে অথবা লঞ্চে যেতে চান তাহলে ঘুরে দেখুন আরও বেশ কিছু জায়গা। শের এ বাংলা একে ফজলুল হক যাদুঘর, গুঠিয়া মসজিদ, দুর্গাসাগর দিঘি।
আরও কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করবেন পরবর্তী পোস্টে জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
