
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ফিজি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৯ জনের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানার চর হাজিগঞ্জ গ্রামের মো. সেলিন মোল্লা (৪৩) এবং কোতোয়ালি থানার ভাজনডাঙ্গা গ্রামের সুমাইয়া আক্তার (২২)।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদীর সঙ্গে কারাগারে থাকাকালে সেলিম মোল্লার পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময় তিনি নিজেকে ফরিদপুরে অবস্থিত ‘ইতালি ট্রাভেলস’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দেন। পরে স্বল্প খরচে ফিজি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাদীর মাধ্যমে মোট নয়জনকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফিজি পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাব ও নগদের মাধ্যমে ওই নয়জনের কাছ থেকে মোট ১৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে টাকা নেওয়ার পর প্রায় আট মাস পার হলেও কাউকেই বিদেশে পাঠানো হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন অভিযুক্তরা।
পুলিশ জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে আরও টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাহবুবা মার্কেটে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানতে পেরে টাকা প্রদানকারীরা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ২ নম্বর আসামি সুমাইয়া আক্তার তার সহযোগীদের সতর্ক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ১৩ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় অভিযুক্ত সেলিম মোল্লা ও সুমাইয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের কোনো বৈধ ট্রাভেল এজেন্সি থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলা নম্বর-১০, তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) চঞ্চল বিশ্বাস জানান, মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে বিজ্ঞ আমলি আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।