ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় রাসহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশাল মাঠজুড়ে পানি জমে আছে। মাঠের এক পাশে মসজিদ, দুই পাশে কাচা রাস্তা এবং সামনে পেছনে বসতবাড়ি থাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের এলাকার পানি গড়িয়ে প্রায় সারা বছরই জলাবদ্ধ থাকে বিদ্যালয়ের মাঠটি। বৃষ্টি বেশি হলে মাঠের পানি ছাত্র ছাত্রীদের হাটু পর্যন্ত তলিয়ে যায়। স্কুলের মাঠ নোংরা পানিতে তলিয়ে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।
গত কয়েক বছরের বেশি সময় ধরে স্কুলটিতে এমন জলাবদ্ধতার সমস্যা চলেছে। গত তিন চার বছরে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়েছে। আর গত তিন মাস ধরে জমে থাকা পানি স্কুলের সিঁড়ি ছুঁই ছুঁই করছে।
জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তানজিলা আফরিন বলেন, ‘স্কুলের মাঠ অপেক্ষাকৃত নিচু। বৃষ্টি ও আশেপাশের সমস্ত পানি গড়িয়ে মাঠে জমা হয়। এতে স্কুলের মাঠ ভরে পানি শিক্ষার্থীদের হাটু সমান হয়ে যায়। গত আট বছরের বেশি সময় ধরে আমরা এই সমস্যায় রয়েছি।’ তিনি বলেন, স্কুলের দুপাশে কাচা রাস্তা ও বসতবাড়ি থাকায় কেউ তাদের জমিনের উপর দিয়ে পানি বের করতে দিচ্ছে না। এখন পানি নিষ্কাশনের আর কোনো ব্যবস্থা নেই। গত চার বছর ধরে পানি জমার এই সমস্যা প্রকট হয়েছে। আমরা নারী শিক্ষকেরা স্কুলে ঢুকতে পারছি না। ছাত্র ছাত্রীরাও পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে চায় না। এলেও ঝুঁকি থাকে।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষকা (ভারপ্রাপ্ত) জাহানারা বেগম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমরা বিপদে পড়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সাহায্যে এগিয়ে আসছেন না। বিগত প্রধান শিক্ষক এব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোন সুফল মিলেনি সমস্যা সমাধানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। ডিমলা অফিস থেকে লোকজন এসে পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু সমাধান এখনো পাই নাই। তিনি আরো বলেন, উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে দাবি সরেজমিনে ঘুরে পানি নিষ্কাশনের ও মাঠ ভরাট করার ব্যবস্থা গ্রহন করে ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য মাঠটি উপযোগী করে তুলতে কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোরর্শেদ মনি বলেন, এ ব্যাপারে পানি নিষ্কাশনের জন্য আমি ২০২৩ সালে স্থানীয় লোকজনদের সংগে একাধিকবার কথা বলেছি, কিন্তু কেউ পানি বের করার পথ দেয় না। সবাই নিজ স্বার্থ নিয়ে চলে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নার্থ রায় জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি অবগত না। জানলাম তবে এমন হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও মাঠটি ভরাট করার প্রয়োজনীয ব্যবস্থা গ্রহন করবো।