
মো. নাজিউল্লাহ ভূইয়া
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা কেরানীগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয়। ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩ সংসদীয় আসনের আওতাধীন উপজেলার সব ভোটকেন্দ্রকে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল ও ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ উমর ফারুক।
ইউএনও মোঃ উমর ফারুক জানান, কেরানীগঞ্জ উপজেলায় মোট ২২১টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুধু ক্যামেরা বসিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়নি—উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম) স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিকভাবে সব ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ভোটকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
ইউএনও জানান, এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল টিম, যারা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, সহিংসতা বা নাশকতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো ধরনের সহিংসতা, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বা নাশকতা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
ভোটারদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে, নিরাপদে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তিনি কেরানীগঞ্জবাসীকে সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, শতভাগ সিসিটিভি নজরদারি, কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি, যৌথ বাহিনীর টহল এবং সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম—সব মিলিয়ে কেরানীগঞ্জে একটি লৌহকবচসম নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। এতে নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী প্রশাসন।
স্থানীয় ভোটারদের একাংশও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে।