
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাংগাইল মধুপুরে কিস্তিতে মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার কিনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টাকা পরিশোধের পরও চেক ডিজঅনার মামলায় হয়রানির অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের অর্ধশতাধিক মালিক। মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ এবং কিস্তির হিসাব-নিকাশ যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী মাহিন্দ্রা মালিক ও শ্রমিকেরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের আনারস চত্বরে মাহিন্দ্রা (পিয়াজু) সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক মাহিন্দ্রা মালিকসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, মধুপুরের ইয়ামাহা সেলস সেন্টার থেকে নগদ ও কিস্তিতে সিএনজি অটোরিকশা এবং মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার বিক্রি করা হয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক মানুষ কিস্তিতে এসব যানবাহন কিনে তা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে কিস্তির টাকা পরিশোধ ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে কয়েকজন মালিকের সঙ্গে সেলস সেন্টার কর্তৃপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মালিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও তাঁদের দেওয়া চেকের বিপরীতে ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি তাঁরা মানসিক চাপ ও জীবিকা নির্বাহে সংকটে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী বক্তব্যে মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও সেলিম বলেন, “আমরা চুক্তি অনুযায়ী কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা হয়রানি চাই না, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই।”
তাঁদের দাবি, সেলস সেন্টারের সঙ্গে করা কিস্তির চুক্তি, পরিশোধের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব মামলা তাঁদের দাবি অনুযায়ী অন্যায়ভাবে করা হয়েছে, সেগুলোর আইনগত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে মাহিন্দ্রা সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সুলতান ও সাধারণ সম্পাদক চান মিয়া বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সেলিমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও লেনদেনের হিসাব যাচাই করে আইনানুগভাবে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশ নেয়া ভুক্তভোগী ও নেতৃবৃন্দ।