
হাসান ভূঁইয়া,
বিশেষ প্রতিনিধি (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী রেল স্টেশন, হরষপুর স্টেশন বাজারে দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার করতে লুট করা হয়েছে প্লাটফর্মের সবকটি দোকান সহ বাজারের অন্তত দেড়শটি দোকান।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মাধবপুর উপজেলার হরষপুর স্টেশন সংলগ্ন জামিয়া ইসলামিয়া দারুম উলুম হরষপুর মাদ্রাসা মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত দুই বছর যাবত মসজিদটির ঈমামকে কেন্দ্র করে মাধবপুর ও পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্র ও মুসল্লিদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তৎকালীন হবিগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ এডভোকেট মাহবুব আলীর হস্তক্ষেপে এর আপোষও হয়েছিল। সর্বসম্মতিক্রমে মনিপুরী হুজুর নামে খ্যাত নতুন ঈমাম নিয়োগ করা হয়। তবে জুম্মার নামাজের পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী প্রাক্তন ঈমাম বশির হুজুরকে মোনাজাত পড়ার কথা বলেন। এতে মুসল্লিদের কেউ কেউ ঈমামের পক্ষে বিপক্ষে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে প্রাক হরষপুরের (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরষপুর স্টেশন ও বাজারে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিয়ালউরি গ্রামের রাজু আহমেদ, সুলতানপুর গ্রামের জামাল মিয়া সহ ৫ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যান্য আহতরা হলেন, সামাদ মিয়া (৪০), কাউসার আহমেদ(৩২), সুচন মিয়া(২৮), আরমান মিয়া(১৭), ইয়াসিন শাহ (২১), রাসেল (১৭), মইনুদ্দিন রাজু (২৪) ও জামাল মিয়া (৫৫) সহ আরো নাম না জানা অনেকে। টানা তিন ঘন্টা এই ধ্বংসযজ্ঞে হরষপুর স্টেশন বাজার পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি দোকানে ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। এতে বাজারের প্রায় দেড়শ দোকানের শাটার ভেঙে লুট করে নিয়ে যায় মূল্যবান মালামাল ও টাকা পয়সা। এ ঘটনায় প্রায় তিন ঘন্টা ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
প্রাচীনতম ও ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মসজিদটি মাধবপুর উপজেলার অধীনে হলেও এর মাত্র ৩০০ মিটার পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা শুরু। বিজয়নগরের অন্তত দশটি গ্রামের মুসল্লি এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এটি মাধবপুর ও বিজয়নগর উভয় উপজেলার ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবেও বিবেচিত। যায়যায় কালের অনুসন্ধানী চোখ এই ধর্মীয় স্পর্শকাতর স্থানটিকে কেন্দ্র করে কেন এবং কিভাবে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে গেল তার প্রকৃত কারন জানার চেষ্টা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাক-হরষপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) গ্রামের একজন মুসল্লি সেদিন মসজিদে জুম্মার নামাজে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, জামিয়া ইসলামিয়া দারুম উলুম হরষপুর মাদ্রাসা মসজিদের প্রাক্তন ঈমাম মোহাম্মদ বশির হুজুর জোরপূর্বক জুম্মার নামাজ পড়াতে চাইলে, মসজিদের ভেতর দু’পক্ষের মধ্যে হট্টগোল বেধে যায়। এই ঘটনার রেশ ধরে নামাজের পর এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর আক্রমণাত্মক হলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একটি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নিজ উপজেলার গ্রাম ও ইউনিয়নের মানুষের সাহায্য চেয়ে হামলাকালীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য যার কিছু আছে তা নিয়ে হামলাকারীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাসুদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছিলাম। রেলওয়ে স্টেশনের ব্যরিয়ার পড়ে থাকার কারণে আমাদের ঘুরে আসতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে এই বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।