
মো নাজিউল্লাহ ভূইয়া
কেরানীগঞ্জ ( ঢাকা) প্রতিনিধি
ঢাকার কেরানীগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের আজীবন সম্মান ও কল্যাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের গর্বিত সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, যতদিন পৃথিবী থাকবে, ততদিন বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য শিগগিরই বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাঁরা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি তাঁদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন সংকটে জিয়া পরিবার জনগণের পাশে ছিল।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। পরবর্তীতে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে ভোটাধিকার ফিরে এসেছে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জিঞ্জিরা ইউনিয়নের মনু ব্যাপারীর ঢালে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ সময় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সকাল সাড়ে নয়টায় উপজেলা মাঠে কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কাউট দল অংশ নেয়।
পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক-এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁরা যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী জীবনের নানা বাস্তবতার কথাও বলেন।
আলোচনা সভার আগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া, দক্ষিণ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম হাসান প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও উমর ফারুক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।তাদেরকে সম্মান জানানোর জন্যই আমাদের আজকের আয়োজন।