
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর নৌকা ঘাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চরাঞ্চলের মানুষ।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঘাট এলাকায় এ মানববন্ধন করা হয়। এতে শতাধিক চরের প্রায় এক হাজার বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, চরবাসী জেগেছে’, ‘চাঁদাবাজের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘ঘাটের নামে চাঁদাবাজি, চলবে না চলবে না’, ‘ঘাটের অতিরিক্ত ইজারা বাতিল করো, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমরা মরি অত্যাচারে, প্রশাসন কেন এসি ঘরে’, ‘চরের মানুষ জিম্মি কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সংগ্রাম সংগ্রাম, অতিরিক্ত খাজনা বাতিলের সংগ্রাম’সহ নানা ধরনের স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যাত্রাপুর হাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অবসরপ্রাপ্ত আর্মি সদস্য নজরুল ইসলাম, যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন, যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ লুৎফর রহমান, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবু রায়হান, আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যাত্রাপুর হাটে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার আশপাশের চরাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ হাটে আসেন। কিন্তু ঘাট পারাপারের সময় নির্ধারিত খাজনার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে।ইজারাদাররা ঘাটের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর হয়রানি করে আসছেন। বিভিন্ন চর হতে প্রতি হাটবারে কৃষিপণ্য নিয়ে আসা বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অবৈধ।সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আদায় করা হয়, নৌযান চলাচলে বাধা দেয়া হয় এবং মাঝেমধ্যে চরবাসীকে মারধরের মতো ঘটনাও ঘটে। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না। অবিলম্বে অতিরিক্ত ইজারা প্রথা বাতিল করতে হবে এবং আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে।’
চরের বাসিন্দা লিয়াকত আলী নামের একজনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘এই ঘাটের অতিরিক্ত ইজারা বাতিল চাই, আমাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে, আমরা এই ঘাট ইজারা প্রথার চিরদিনের জন্য বাতিল চাই।
আমাদের অঞ্চলে সাধারণ মানুষদেরকে তারা জিম্মি করে টাকা আদায় করে নিচ্ছে। চরের মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল সে সকল দুর্বল মানুষদেরকে নিয়ে তারা জোর করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে আমরা এই ঘাট থেকে মুক্তি চাই।’
যাত্রাপুর হাটের ব্যবসায়ী মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন আমরা ঘাটের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। আমাদের সঠিক নিয়মে ঘাটের টাকা নিতে বার বার বলেছি, কিন্তু তারা জোর করে সাধারন মানুষ কাছে টাকা অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। চরের মানুষ প্রায় সকলে নিম্ন আয়ের। তাই আমরা চিরদিনের জন্য ঘাট ইজারা বাতিল চাই।’
বক্তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত খাজনার কারণে চরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া তো দূরের কথা, খরচ উঠানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে এ পরিস্থিতি চরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।