
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক জোট আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে তুরস্কে রয়েছেন শৌকরি। সেখানে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি যে এই যুদ্ধের সব পক্ষ, অর্থাৎ আমরা সবাই ইতোমধ্যে সমঝোতার একটি পয়েন্টে পৌছাতে পেরেছি। আশা করছি, রমজানের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি হস্তান্তর শুরু হবে।’
চলতি মার্চের ১২ কিংবা ১৩ তারিখে শুরু হতে যাচ্ছে রমজান। সামেহ শৌকরি জানান, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে আগামী ১০ কিংবা ১১ মার্চ। এই যুদ্ধবিরতি হলে ৪০ দিনের জন্য গাজায় অভিযান বন্ধ রাখবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং সেখানে প্রতিদিন প্রবেশ করবে অন্তত ৫০০ ত্রাণ ও খাদ্যপণ্যবাহী ট্রাক। বিনিময়ে নিজেদের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে ৪৫ জনকে মুক্তি দেবে উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর জন্য এখন বিপুল পরিমাণ খাদ্য, চিকিৎসাপণ্য ও অন্যান্য ত্রাণ প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাজায় ত্রাণপণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলাম। জাতিসংঘ তাতে রাজিও হয়েছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, যতদিন গাজায় সংঘাত না থামছে, ততদিন সেখানে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোও সম্ভব নয়।’
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যায়। অভূতপূর্ব সেই হামলার পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সেই অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০ হাজার। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর গোলায় বাড়িঘর হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন আরও লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।
এই যুদ্ধের শুরু থেকেই হামাস ও ইসরায়েলের সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার। এই তিন দেশের ব্যাপক প্রচেষ্টায় গত ২৫ নভেম্বর প্রথম যুদ্ধবিরতি হয়েছিল গাজায়। সেই বিরতির সময় নিজেদের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দেড়শ জনকে ছেড়ে দিয়েছিল দেশটির সরকার।