
রাবি প্রতিনিধি:
সৌন্দর্য প্রেমী সকল মানুষই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিকতার প্রেমে পড়তে বাধ্য।এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যে রাবির সৌন্দয্যে বিমোহিত নয়।লক্ষ-লক্ষ শিক্ষার্থীর আবেগ, অনুভূতি আর আবেগের রূপের রাণী হয়ে জেগে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই রাণীর স্বর্গে সৌন্দর্য প্রতিমার মধ্যমনি হিসাবে জায়গা দখল করে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল-সাদা বাসগুলো।
ক্যাম্পাসের মাধুর্যতা পূর্ণতাদান করতে যেন প্রাণভোমরার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে বাসগুলো। সারিতে সারিতে যখন পরিবহণ চত্বরে লজ্জাবতী লতার মতো ঠাঁই করে দাঁড়িয়ে থাকে বাসগুলো; তখন শুধু তারা দাঁড়িয়েই থাকে না হাজার হাজার শিক্ষার্থীর গল্প, গান, আড্ডা, যাত্রা স্মৃতির গল্প হয়ে জেগে থাকে। অনবরত করতে থাকে নব-স্মৃতির মালা রচনা ও সেইসাথে বাসের ঘুরতে থাকা চাকার মতো হাজারো স্বপ্নজয়ের বিজয়গাঁথা।
শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় এবং প্রথম প্রেমের গল্প নীল-সাদা বাসের সংস্পর্শ আসার উদ্দীপনা থেকেই শুরু হয়। এক অজানা মায়ার আবেশে স্নিগ্ধ ছায়ার মতো মিলে যায় অনুভূতিগুলো। কখন বাসের সাথে একটি ছবি তুলব, একটু প্রেমাবেশে তার ছায়ার পরশে এক টুকরো ভালোবাসার স্বাদ আচ্ছাদন করব। একটু মায়াবতীর মায়াছায়ায় শীতল হবো এই বাসনায় অধীর আগ্রহে সময় কাটতে থাকে। সত্যিই প্রথম প্রেমিকাকে ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন, তার সাথে একটু সখ্যতা গড়া কিংবা রঙিন একটা ছবি তোলার জন্য অপেক্ষার মুহূর্ত কতই না নিদারুণ হবে। সাথে একটু ঝটিকা সফর যেন স্বপ্নের মতো।
সকালবেলা বাসগুলো যখন ছেড়ে যায়, তখন মনে হয় এ যেন হাজারো শিক্ষার্থীর লালিত স্বপ্ন, আবেগ ও ভালোবাসা।। নীল সাদা বাসগুলোর অবিরাম গতিতে ছুটে চলা যেন আকাশের সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে যায়। ক্যাম্পাসে সারিতে সারিতে অবস্থানকালে নীল-সাদার প্রতি শিক্ষার্থীদের রয়েছে প্রেমাবেগ, আড্ডা এবং সেলফি তোলার দৃশ্য। ক্লাস না থাকলে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়কে আনন্দময় করতে আসে নীল-সাদা লজ্জাবতীর সঙ্গে। তাইতো নীল-সাদা এই রূপসীদের কেন্দ্র করে রয়েছে হাজারো শিক্ষার্থীদের আবেগ, ভালোবাসা এবং রোমাঞ্চকর মুহূর্ত।
নীল-সাদা সখি যখন হালকা ফিরফিরে বাতাসে মধ্য দিয়ে চলে যাত্রীর কপালের এলোচুলগুলো যখন উড়তে থাকে। আঁকা-বাঁকা রাস্তা দিয়ে রূপসীর কমরে কসলের মতো মৃদু আবেশে দেহ দুলার মতো দুলে উঠে তার দেহ; এ যেন পূর্ণতার ছোঁয়া হয়ে ধরা দেয়। দলবেধে বাসগুলো যখন শহরের রাস্তাগুলো দাপিয়ে বেড়াতে বের হয়; মনে হয় নীল-সাদা বনের একঝাক ষোড়শ তরুণী কতই না স্নিগ্ধতার আবেশ ছড়াতে চাকাগুলো ছুড়ে হাওয়ার সাথে ভেসে যাচ্ছে।হর্নের শব্দ যেন শব্দ নয়; এ এক অজানা মধুর সুরের কলতান। কেনই বা মনে হবে না প্রেয়সীর বোবামুখের আওয়াজেও যে প্রেমিক নান্দনিকতার ছাপ খুঁজে পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণের ঝুলিতে এখন বাস আছে ৩০টা। তবে চালক সংকটের কারণে ১৪টি রোডে বাস চলে ২২টি নীল-সাদা বাস। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে প্রথম রুট ছেড়ে যায় একে একে ২২টি নীল-সাদা বাস। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরো ৩টা ট্রিপ যায়। বাসে চেপে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছায় স্বাচ্ছন্দ্যে।
নীল-সাদা বাসের সাথে সখ্যতার ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি নন তার কোনো প্রেমিকই। ‘তোমরা যে যাই বলো ভাই, তাল গাছটা আমার’ এমনই দাবি করে শিক্ষার্থীরা রাবির সৌন্দর্যকে সেরা সৌন্দর্য আর অনিন্দ্য সুন্দরের প্রতীক এই বাসগুলোকেই দেখে থাকেন।
নীল-সাদা এই লজ্জাবতীর প্রতি প্রথম আবেগের কথা বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সামিরা নাজনিন যুথি বলেন, ‘অপূর্ব রূপে নান্দনিকতাকে পরিপূর্ণ করতে সৌন্দর্যের স্বর্গে আবির্ভূত যেন রাবির নীল-সাদা বাসগুলো। রাজশাহী শহরের আনাচে কানাচে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ফেরি করে রাবির একঝাঁক নীল সাদা বাস। রাবিতে চান্স পাবার অন্যতম প্রেরণা এই নীল-সাদা বাসগুলো। সারি সারি নীল-সাদা বাসগুলো পরিবহণ চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকে অদম্য স্পৃহায়। প্রতিটি বাস ঘিরে রয়েছে হাজারো শিক্ষার্থীর গল্প, গান, আড্ডা, যাত্রাসহ অসংখ্য স্মৃতি। বাসগুলো যেন ধারণ করে চলেছে নব নব স্মৃতির রোমাঞ্চকর আবেগ, অনুভূতি আর প্রেমাবেগ।’
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলেই শিক্ষার্থীদের মনে ভেসে ওঠে নীল-সাদা বাস। এ এক আলাদা উপাখ্যান। নীল ভালোবাসার রং আর নীল-সাদার মিশ্রণ মানেই মনে আসে এক অন্যরকম নরম কোমল অনুভূতি। ছাত্র-ছাত্রীরা স্বভাবতই একেকজন বিচিত্র স্বপ্নকুঁড়ি। তাদের চোখে নিজের ভার্সিটির সারি সারি এমন শোভনীয়, স্বপ্নীল রঙের বাস ধরা দেয় স্বপ্নপূরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে’।
তিনি আরও বলেন, রাবির প্রতিটি ভবন ও এখানকার আকাশ মাটির মাঝে নীল-সাদা বাস দাঁড়িয়ে থাকে স্বগর্বে তার স্বতন্ত্র মহিমায়। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই বাসের একটি সিট দখল করতে পেরে নিজেরা হয় ধন্য আর ঝাঁকে ঝাঁকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বয়ে নিয়ে নীল-সাদা বাস হয় পরিপূর্ণ। নীল-সাদা বাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক। দেশের আনাচে কানাচে বিদ্যমান লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নীল-সাদা বাসকে ঘিরেই।’
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মনিশা আফরিন জুঁই বলেন, ‘যখনই নীল-সাদা বাসগুলোর উপর আমার দৃষ্টি পড়ে, তখনই মনে পড়ে এটিই তো আমার প্রথম প্রেমের গল্প। বাসগুলো পরিবহণ চত্বরে সারি সারি হয়ে থাকে যেন লজ্জাবতী লতার মতো। লজ্জাবতীগুলো আমার গল্প, গান, আড্ডা, যাত্রা স্মৃতির গল্প হয়ে চিরকাল থাকবে’।
বাসগুলোর অবিরাম গতিতে ছুটে চলা, যেন ভেসে যায় আকাশে নীল-সাদা মেঘের ভেলা। ফিরে ফিরে বাতাসে কপালের এলোচুলের উড়া, হৃদয়ে দেয় যেন প্রেমের দোলা। বাসগুলোর স্নিগ্ধ ছায়ায়, জীবনের রঙিন মুহুর্তগুলো হয়ে ওঠে আনন্দময়। তাইতো নীল-সাদা বাসগুলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবেগ, অনুভূতি ভালোবাসা।’রাবির সৌন্দর্যকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে তুলে আবেগ, ভালোবাসা আর স্বপ্নের নীল সাদা বাস।