
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি :
নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী লোহাগড়া বাজারে মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজার সংলগ্ন ময়লার স্তূপ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত সুফল পাননি ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। নামমাত্র পরিষ্কার কার্যক্রমের পরও বাজারজুড়ে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আগের মতোই রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরেজমিনে বাজার এলাকা ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন কাজ চললেও অধিকাংশ ময়লা এখনো পড়ে রয়েছে। এতে বাজারের পরিবেশের তেমন উন্নতি হয়নি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
মাংস ব্যবসায়ী আজি বলেন, “দুইদিন ভেকু এনে কোনো রকম একটু কাজ করে রেখে চলে গেছে। আমাদের এবং বাজারের ক্রেতাদের যে দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধ, তা আগের মতোই আছে। তাহলে কী উপকার হলো? আমি মাঝে মাঝে নিজের টাকায় দোকানের আশপাশ পরিষ্কার করি। কিন্তু যে কাজ হয়েছে, তাতে বাস্তবে কোনো উপকার পাইনি।”
মুরগি ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, “ময়লা অপসারণ করতে এসে দুদিন ভেকু দিয়ে কাজ করেছে, তারপর আর কোনো খবর নেই। যে ময়লা ছিল, সেই ময়লাই পড়ে আছে। আমরা চাই এখানকার সব ময়লা সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হোক এবং জায়গাটি বালু দিয়ে ভরাট করা হোক। তাহলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দুর্ভোগ কমবে।”
মাংস কিনতে আসা রোজিনা পারভিন বলেন, “এত দুর্গন্ধ যে এখানে দাঁড়ানোই যাচ্ছে না। কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে কোনো রকম মাংস কিনে বের হয়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন বলেন, “ময়লা অপসারণের কাজটি আমার তত্ত্বাবধানেই হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ জামায়াতের নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়েছে। ভেকু দিয়ে তিন দিন কাজ করানো হয়েছে।” এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা।
তবে বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাজু আহমেদ বাপ্পী বলেন, “বাজারে ময়লা অপসারণের বিষয়টি আগে জানতাম না। যখন কাজ শুরু হয়, তখন জেনেছি এবং কিছু সময় সেখানে ছিলাম। এর বাইরে বেশি কিছু জানা নেই।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার বলেন, “কাজটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। শুনেছি সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু স্যার কাজটি করিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই।”
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাজারের মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজার এলাকা পরিদর্শন করে ময়লার স্তূপ অপসারণের নির্দেশ দেন এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু। সে সময় প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছিল।তারই ধারাবাহিকতাই গত ২২ এপ্রিল কাজটি উদ্বোধন করা হয়।
তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও বাজারের পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত স্থায়ীভাবে ময়লা অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং স্থানটি বালু দিয়ে ভরাটের দাবি জানিয়েছেন তারা।