
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি :
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা কচুবাড়ীয়া মহনপাড়ায় সরকারি জমিতে বসবাসকারী বাস্তুহারা পরিবারের কাছ থেকে জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইতে গেলে উচ্ছেদ ও ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কচুবাড়ীয়া মহনপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে কচুবাড়ীয়া মহনপাড়ার সরকারি জমিতে প্রায় ২০টি পরিবার ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই দিনমজুর ও বাস্তুহারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে রামপুর গ্রামের সারেজান ফকিরের ছেলে শরিফুল ফকির ও লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত আবু বক্কারের ছেলে কুটি মিয়া পরস্পর যোগসাজশে সরকারি জমি তাদের নামে বন্দোবস্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ আশ্বাসে অন্তত ৯ জনের কাছ থেকে মোট প্রায় ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি বুঝিয়ে না দেওয়ায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, কয়েকদিন আগে টাকা ফেরত চাইতে গেলে শরিফুল ও কুটি মিয়া বলেন, “তোরা এখানে বসবাস করতে পারবি না। আমাদের ক্ষমতা কতটুকু জানিস? কাউকে কিছু বললে রাতের আঁধারে ঘরবাড়ি ভেঙে তাড়িয়ে দেবো।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমিদস্যু চক্র এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সামনে থেকে কাজ করে কুটি মিয়া নামে এক প্রতারক। এর পেছনে রয়েছে বড় বড় রাঘব বোয়ালরা যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফ্ল্যাট আকারে জমি বিক্রি করছে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সরকারি জমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বেনামে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ চক্রের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে একাধিক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগীরা তদন্তসাপেক্ষে টাকা ফেরত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।