
দিরাই-শাল্লা প্রতিনিধি:
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রয়াত রবীন্দ্র কুমার বৈষ্ণবের ছেলে রঞ্জন কুমার বৈষ্ণবের প্রায় এক হেক্টর রোপণকৃত বোরো জমিতে জোরপূর্বক মই দিয়ে ১০০মণ উৎপাদিত ধানের ক্ষতিগ্রস্হ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রঞ্জন কুমার বৈষ্ণব বাদী হয়ে শাল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে থেকে জানা যায়, প্রায় ৮০-৮৫ বছর যাবৎ ওই জমি তার পূর্ব পুরুষরা বোরো আবাদ করে আসছেন। পূর্ব পুরুষদের সত্ত্ব দখলীয় জমি ভুলবশত আরএস সেটেলমেন্ট জরিপে কুড়ি শ্রেণি হিসেবে সরকারের খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় রঞ্জন কুমার বৈষ্ণব আদালতে সত্ত্ব মোকদ্দমা দায়ের করেন। যা আদালতে বিচারাধীন। আদালত থেকে ওই জমির উপর কোন নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়নি।
কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ শাল্লা ইউপির কান্দিগাঁও (শান্তিনগর) গ্রামের অর্ধশত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শত মণ উৎপাদিত ধানের রোপণকৃত জমিতে মই দিয়ে নষ্ট করে ফেলে। এ বিষয়ে রঞ্জন কুমার বৈষ্ণব বলেন আমি ড. জয়া সেনগুপ্তা’র সমর্থক।
বৃহস্পতিবারের (৪ জানুয়ারি) শাল্লা সদরে ড.জয়া সেনগুপ্তা’র জনসভায় প্রায় ১২-১৫ হাজার মানুষের সমাগম হয়। আমার ভেড়াডহর গ্রাম থেকে আমার নেতৃত্বে একটি বড় মিছিল আসে জনসভায়। এটিকে পুঁজি করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে ও হিন্দু সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করার জন্যই এই চক্রটি আমার ক্ষেত নষ্ট করেছে।
এ ব্যাপারে আব্দুস ছাত্তার মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, এই কাজটি যারা করেছে তারা ভাল করেনি। সরকারের জায়গা হলে সরকার দেখবে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেয়া অপরাধ। জমি কার কাগজ প্রমাণ করবে। বাহাড়া ইউপি সদস্য ইন্দ্রজিৎ বৈষ্ণব বলেন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কাজটি করা মানে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করা।
গৌতম বৈষ্ণব বলেন আমরা বৃহস্পতিবার ড. জয়া সেনগুপ্তা’র সমর্থনে একটি বড় মিছিল ভেড়াডহর গ্রাম থেকে শাল্লা সদরে জনসভায় যায়। কাঁচি প্রতীকের সমর্থনে মিছিল নিয়ে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতি করে এই ঘৃণ্যতম ঘটনা ঘটায় কান্দিগাঁও গ্রামের নতুনহাটির মানুষ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শাল্লা ইউপি সদস্য তৌমুর রহমান বলেন ফসলের ক্ষেত নষ্ট করা চরম অন্যায় কাজ।
এ ঘটনায় উপজেলার শাল্লা ইউপির কান্দিগাঁও-শান্তিনগর গ্রামের মমিন মিয়া, নূর আলম, আরজু মিয়া, মুজিবুর রহমান, বজলু মিয়া, সাদ্দাম হোসেনসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অজ্ঞাত আরো ২৫জনকে আসামী করা হয়।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন জমিটি খাস জায়গা। তবে আবাদকৃত জমি ক্ষতি করা যাবে না। এখনো এ নিয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।