
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
মির্জাপুরের কলিমাজানী গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে লৌহজং নদী।লৌহজং নদীর কলিমাজানী খেয়াঘাটে প্রায় ৫-৬ বছর আগে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেতুটির প্রায় ৫০শতাংশ কাজ শেষ হলেও গত প্রায় দেড় বছর হলো বন্ধ রয়েছে সেতুটির নির্মাণ কাজ।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও কোন হদিস নেই।অসামপ্ত সেতুর কাজ সমাপ্ত না হওয়ায়,শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কৃষক,শ্রমিক,ব্যবসায়ীসহ অন্তত ৯টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দূর্ভোগের যেন অন্ত নেই।বর্ষাকালে নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম খেয়া আর শুষ্ক মৌসুমে ভরসা বাঁশের সাঁকো।উপজেলার,পথহারা,কলিমাজানী, বংকুরতলা,বেত্রাশিন,চান্দুলিয়া,দস্তিরপাড়া, ভানুয়াবহ,রানাশাল,কালিয়াকৈরের আড়াইগঞ্জ গ্রামের অন্তত ১০-১২ হাজার মানুষ প্রতিদিন পারাপার হয় এই খেয়াঘাটে।উপজেলার গোড়াই একটি শিল্পাঞ্চল এলাকা আর এই গ্রামগুলো শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় জীবন ও জীবিকার তাগিদে শিল্প কারখানায় কাজ করেন এসব গ্রামের অনেক নারী-পুরুষ।প্রতিদিন ডিউটি করেন নিজেদের বাড়ি থেকেই।৩টি শিফটে তাদের ডিউটি করতে হয়।কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য কলিমাজানী খেয়াঘাট পারাপারের বিকল্প নেই।অনেক সময় খেয়া পারাপারে বিলম্ব হওয়ার কারনে যথাসময়ে কর্মজীবী মানুষগুলো তাদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেনা।যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনা কলিমাজানী,পথহারা,ভানুয়াবহ,গোড়াই,রানাশাল, রাজাবাড়ি ও মির্জাপুরের ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,২টি মাদ্রাসা,৩টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ২টি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।টাঙ্গাইলের ২য় বৃহত্তম সাপ্তাহিক পশুর হাট দেওহাটা।এসব এলাকার অধিকাংশ পশু ব্যবসায়ীদেরও পারাপার হতে হয় এই খেয়াঘাটে।প্রসূতি মা-সহ অনেক জরুরি রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয় উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতালে।বর্ষাকালে অনেক সময় গভীর রাতে খেয়া পারাপার বন্ধ থাকে,ফলে জরুরি রোগী নিয়ে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। মোটরসাইকেল,অটোরিকশা পারাপারের সময় চালকগন খেয়া ও বাঁশের সাঁকো থেকে নদীতে পড়ে দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে আহতও হয়েছে অনেকে।সরেজমিনে কলিমাজানী,পথহারা,চান্দুলিয়া,দস্তিরপাড়া গ্রামের অন্তত ২০-২৫ জন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।তারা অন্তহীন ভোগান্তি নিরসনে অসমাপ্ত সেতুটির কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন,পাশাপাশি গোড়াই সোহাগপুর হাইওয়ে হইতে কলিমাজানী সেতুর দুইপাড়ের সংযোগ সড়কটি প্রসস্থকরন ও সড়কের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করারও দাবি জানান অনেকে।উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,৬মাস আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির টেন্ডার বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।ঠিকাদারের ব্যাংক একাউন্ট সিজ করা হচ্ছে।নিয়মানুসারে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুর কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।