
জাবেদ হোসাইন হাটহাজারী প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম,হাটহাজারী শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা হতে ১১:৩০টা পর্যন্ত ত্বরিকত ভিত্তিক অরাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংগঠন গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় ২য় শ্রেণী হতে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ৯ম তম আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি’ পরীক্ষা ২৪।
হাটহাজারী জোনের পরীক্ষা জোনের পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলামে ও সচিব এইচ এম এরশাদ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ও শহীদ করে সি জিয়াউর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
হাটহাজারী জোনের হল পরিদর্শনে আসেন আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষার প্রধান পরিচালক ও আঞ্জুমানের নির্বাহী সভাপতি আলহাজ্ব কাজী আবুল ফোরকান হাশেমী, ইসলামী চিন্তাবিদ উপাধ্যক্ষ মাওলানা কাযী মুহাম্মদ কামরুল আহসান, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাবুল , হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন,বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাঃ হাফিজুর রহমান,সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক আসলাম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন,সুপার সৈয়দ মুহাম্মদ আবু তালেব,উপজেলা বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,জেলার শ্রেষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকা জোবেদা খানম,আর সি এস সেন্টারের মালিক মোহাম্মদ ফারুক চৌধুরী, হাটহাজারী ব্যাবসায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ সাইমুন,হাটহাজারী কিন্ডারগার্টেন সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ ওসমান সুলতান নশরত শাহ মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ জাবেদ হোসাইন,মাষ্টার মহি উদ্দীন, মাওলা হাসান রেজা প্রমূখ।
পরিদর্শনকালে কাযী ফোরকান হাশেমী বলেন, ‘প্রতিটি শিশু জন্ম গ্রহণ করে স্রষ্টা প্রদত্ত মেধা নিয়ে। তবে তা প্রথমে নির্ভর করে তার পরিবারের উপর। একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষকের উপর ও পরিবেশের উপর। একটি জাতির মেরদন্ড হলো শিক্ষা। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রয়োজন। আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তানদের শিক্ষিত করতে মা-বাবার দুঃশ্চিন্তার অন্ত নাই। কিন্তু সন্তানদের সৃজনশীল, প্রতিযোগিতামূলক, সুস্থ সংস্কৃতি, বাঙ্গালি সংস্কৃতি, মনোবিকাশের দিকে তাদের ততটা আগ্রহ কিংবা গুরুত্ব নেই। শিশু-কিশোরদের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় বাঙালি সংস্কৃতি মূল্যবোধ সম্পন্ন সৃজনশীলতা ও মননশীলতার উপর শিক্ষা দিতে হবে। সৃজনশীল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে। এতে শিশুদের সুপ্ত মেধা-মনন বিকশিত হয়।’
উপস্হিতি অতিথি বলেন ‘সত্যিকারের মানুষ রূপে গড়ে তোলায় শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ন্যায়বোধ সম্পন্ন মানুষ না হয়ে শুধুমাত্র শিক্ষিত হলেই একটি জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শিক্ষিতদের কারণে, মূর্খ কৃষক-শ্রমিকদের কারণে নয়। তাই আমাদের প্রয়োজন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ সুশিক্ষিত প্রজন্ম। দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে শিশুরা। তাই তাদেরকে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন আর নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও প্রযুক্তি সুষম ব্যবহারে দক্ষ গড়ে তুলতে না পারলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই দেশ-প্রেমিক দক্ষ সুনাগরিক গড়ে তুলতে আসুন আমরা নিজেদের পরিবর্তন করি।