রিয়া মোদক
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ২০২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-১ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ), বিজ্ঞান অনুষদের ডীন এবং চারটি বিভাগ (গণিত,রসায়ন,পদার্থবিজ্ঞান এবং পরিসখ্যান)-এর শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।
অনুষদের ডীন ড.সৈয়দা জাহানারা আফরোজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি বেলা ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলায়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করা হয় । অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা।
প্রবীণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী সৃষ্টি বলেন,“ক্যাম্পাস মুখরিত তোমাদের পদচারণায়, আশা করি ক্যাম্পাসের ভালো দিক গুলো তোমরা তোমাদের ভবিষ্যত বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।”
নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন,“ স্বপ্ন ছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। কিন্তু চান্স পাওয়ার পর বাড়ি থেকে এত দূরে পরিবার ছেড়ে এসে ভর্তি হয়ে গুছিয়ে নিতে প্রথমে খুবই সমস্যা হয়েছিল, এখনকার শিক্ষক, বড় ভাই আপু, সহপাঠীরা খুবই আন্তরিক। সামনের দিনে উনাদের সাথে থেকে ভবিষ্যত সুন্দর করতে চাই।”
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. বলরাম রায় স্যার বলেন,” তোমরা উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে চান্স পেয়েছে, তোমাদের উপর আমাদের আগামী দিনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। কৃষি নির্ভর হলেও আমার বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য করে একটা মডেল তৈরি করে নিয়েছি, যা তোমাদের ভবিষ্যত বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক ড.ইমরান পারভেজ বলেন,”হাবিপ্রবি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ।শিক্ষার্থীরা একজন দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে নিজেদের যোগ্য করে তুলবে।একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কো কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস এ যুক্ত হতে হবে এবং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.এম.কামরুজ্জামান বলেন,”শিক্ষার্থীরা তোমার জীবনের একটি সোনালী সময়ে উপনীত হয়েছো।এই সময়ের পরিশ্রমই তোমাদের ভবিষ্যতের পথ দেখাবে।শুধুমাত্র পরিমাণগত লক্ষ্য(সিজিপিএ) এর প্রতি খেয়াল রাখলে হবে না,গুণগত লক্ষ্য তথা একজন সৎ এবং মানবীয় মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।নিজেদেরকে আত্মসংযমী,আত্মশুদ্ধি এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।পাঠ্যবইয়ের বাইরেও উন্নত বিশ্বের সব উপকরণ ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে এবং এজন স্মার্ট নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”
এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড.সৈয়দা জাহানারা আফরোজ তার সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
