
মুহিউদ্দিন আহমদ তানভীর
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে কিছু নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তেমনই এক অনন্য নাম মো. রবিউল ইসলাম, যিনি ফটিক দত্ত নামেও পরিচিত। ১৯৬৬ সালে কুষ্টিয়ায় জন্ম নেওয়া এই মানুষটি শুধুমাত্র একজন বডি বিল্ডার নন—তিনি ছিলেন একাধারে ক্রীড়াবিদ, স্বপ্নবাজ এবং অবিচল অধ্যবসায়ের প্রতীক।
শৈশব থেকেই শরীরচর্চার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। পরিশ্রম আর আত্মনিবেদনের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজের দেহ আর ব্যক্তিত্বকে। বডি বিল্ডিং ও ওজন উত্তোলনসহ (ওয়েটলিফটিং) একাধিক খেলায় অংশ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন খেলোয়াড়ের পরিচয় শুধু এক খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতা ‘মি. বাংলাদেশ’-এ ফটিক দত্ত রেকর্ড ১৭ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। শুধু দেশেই নয়, বিদেশের মঞ্চেও তিনি ছিলেন সমানতালে সফল। দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে তিনি মোট ১২৭টি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় শিরোপা জিতেছেন। প্রতিটি অর্জন বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে ক্রীড়াবিশ্বে।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, প্রচার-প্রচারণার অভাবে এমন কিংবদন্তিদের বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশই চেনে না। ৯৯ শতাংশ তরুণ জানেই না, বাংলাদেশে এমন একজন বডি বিল্ডার ছিলেন যিনি একের পর এক শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন।
আজ যখন গ্ল্যামার আর মিডিয়ার ঝলকানিতে ছোট ছোট অর্জনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যায়, তখন ফটিক দত্তের মতো নীরব যোদ্ধারা থেকে যান আড়ালে। তাঁর সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি—যাতে তারা অনুপ্রেরণা পায়, স্বপ্ন দেখতে শেখে এবং বোঝে যে সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে থাকে কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
আসুন, ১৭ বার ‘মি. বাংলাদেশ’ খেতাবজয়ী এই কিংবদন্তিকে স্মরণ করি, তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁর গল্প ছড়িয়ে দিই সর্বত্র।