
তৌফিক আল মাহমুদ
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
চবির কলার ঝুপড়ি, ঢাবির টিএসসি,জাবির বকুলতলা এসব স্থানে হয়ে শিক্ষার্থীদের অবসরের নিত্যসঙ্গী বা সময় কাটানোর অন্যতম আগ্রহের জায়গা তেমনি নোবিপ্রবি’র শান্তিনিকেতন। এখানে এসে নোবিপ্রবি’র শিক্ষার্থীরা এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করে।হতাশা,রেজাল্ট খারাপ হওয়া বিভিন্ন সময় অসময়ের সঙ্গী আমাদের এই নোবিপ্রবির শান্তিনিকেতন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশেই শান্তিনিকেতনের অবস্থান।তার পাশেই অবস্থিত ময়নাদ্বীপ ও কাপল রোড।
শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ফাঁকে বা অবসর সময়ে শান্তিনিকেতনে বিরাজ করে উৎসব মুখর পরিবেশ এবং চায়ের আড্ডায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায় বা কেউ গানের আসরে সব কিছু মিলিয়ে এক অন্য রকম পরিবেশ সেখানে বিদ্যমান। এছাড়াও নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো যেমন নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি, সাইন্স ক্লাব,নোবিপ্রবি বিএনসিসি, NSTUMUN, চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশন ইত্যাদি তাদের নবীন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে এই শান্তি নিকেতনে।
বিস্তা ক্যাফে, জামাল মামার টং,সোহেল মামার টং সহ চারপাশে ছড়িয়ে থাকা কাঠের বেঞ্চ,সারি সারি গাছের ছায়ায় গড়ে ওঠেছে এই আঙ্গিনা।ক্যাম্পাসে শীতের সকালে কুয়াশাঘেরা নিস্তব্ধ প্রকৃতি, বর্ষণমুখর দিন,শরতের কাশফুলের ব্যঞ্জনা ও ময়না দ্বীপের অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনার অন্যতম জায়গা হলো এই শান্তিনিকেতন।
ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে শান্তি নিকেতনও হয়ে ওঠে বিবর্ণ।রং হারিয়ে ফেলে শান্তিনিকেতন। হয়ে ওঠে নিস্তব্ধ, মাঝেমধ্যে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের আনাগোনা দেখা যায়।
ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার সাথেই শান্তিনিকেতনে যেন বিবর্ণ ছায়া নেমে আসে। বিবর্ণতা ঘিরে ফেলে শান্তি নিকেতনের প্রতিটি শুকনো কাঠের চেয়ার কে, নিস্তব্ধতা যেন স্থীর করে দেয় শান্তিনিকেতনের পথচলা কে, তবুও সেই বিবর্ণ আর নিস্তব্ধতাকে কাটিয়ে উঠে প্রিয় শান্তিনিকেতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণভোমরাদের আনাগোনা আর তাদের প্রাণচঞ্চলতায় নতুনভাবে প্রাণশক্তি ফিরে পায় শান্তিনিকেতন। শক্তি যোগায় শিক্ষার্থীদের হতাশায় ঘেরা মননে, তৈরি করে উদ্যমতা আর সামনে যাওয়ার মনোশক্তি। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুভুতির সাথে শান্তি নিকেতন নামের স্বার্থকতা মিলে যায়।