ও একজনকে স্থায়ী বহিস্কার

মো:আরিফুল ইসলাম
যশোর সদর উপজেলা প্রতিনিধি
যশোর জেনারেল হাসপাতালে সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ ভর্তি রোগীদের কাছে বিক্রির রমরমা ব্যবসার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত এক কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। একই সাথে ওয়ার্ড ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্সকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুন অর রশীদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরণের ওষুধ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, মজুদ ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কতিপয় ব্যক্তি সরকারি ওষুধ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের জন্য মোটা অংকের টাকা আদায় করছেন। টাকা দিতে না পারায় শত শত গরীব রোগী ওষুধের অভাবে সু-চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি ওষুধ বিক্রির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি ছিলো কর্তৃপক্ষের।
হাসপাতালের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মণিরামপুর উপজোলার দত্তকোনা গ্রামের মৃত মকসেদ আলীর শতবর্ষী স্ত্রী সুখজানকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সাধারণ শয্যা খালি না থাকায় স্বজনরা ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে পেয়িং ওয়ার্ডে নিয়ে যান। সেখানকার ২৮ নম্বর শয্যায় রেখে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। রোগীর শারিরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতির জন্য মেরোপেনেম জেনেরিকের অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেয়ার জন্য চিকিৎসাপত্রে লিখিত নির্দেশনা দেন ডাক্তাররা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে ইনজেকশনটি দেয়ার জন্য হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্টোর এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে মজুদ থাকা সত্বেও রোগীর স্বজনকে সেটি বেসরকারি ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। রোগীর ছেলে মিজানুর রহমান এক হাজার পাঁচশ’ টাকা দিয়ে একটি ইনজেকশন কেনেন। এরই মধ্যে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ওয়ার্ড বয় আল আমিন ওরফে সোহাগ ফন্দি আটেন মিজানুর রহমানের কাছে সরকারি ওষুধ বিক্রি করার। কোনো রকম সংকোচ ছাড়াই মিজানুর রহমানের কাছে সরাসরি প্রস্তাব দেন প্রতিদিন এক হাজার টাকা দিলে বাইরের ফার্মেসি থেকে কোনো ওষুধ কেনা লাগবে না। সব ওষুধই হাসপাতাল থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করে দেবেন ওয়ার্ড বয় আল আমিন ওরফে সোহাগ। মায়ের দ্রুত আরোগ্য এবং সাশ্রয়ীমূল্যে সব ওষুধ পাওয়ার আশায় মিজানুর রহমান রাজি হয়ে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ড বয় আল আমিন ওরফে সোহাগ রোগী সুখজানের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক মেরোপেনেম ইনজেকশন পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ নগদ টাকা দিয়ে কেনার বিষয়টি বুঝতে পেরেও মায়ের চিকিৎসায় অবহেলার আশংকায় কোনো প্রতিবাদ করেননি মিজানুর রহমান। ১৭ ফেব্রুয়ারি ডাক্তারের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুন অর রশীদের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। কোনো রকম কালক্ষেপন না করেই নিজেই তদন্ত করেন তত্ত্বাবধায়ক।
ওয়ার্ড বয় আল আমিন ওরফে সোহাগ সরকারি ওষুধ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করলেও কিভাবে তিনি ওষুধ গুলো সংগ্রহ করলেন তার সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরই হাসপাতাল জুড়ে আলোচনা চলছে কেন্দ্রীয় স্টোর কিপার এবং কতিপয় ওয়ার্ড ইনচার্জ নার্সসহ প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মচারীর যোগসাজসে সরকারি ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির ব্যবসা চলছে।
দায়িত্বশীলদের দাবি, সরকারি ওষুধ কোনোভাবেই কর্মচারীদের কাছে মজুদ থাকে না। ওয়ার্ড ইনচার্জ নার্সদের লিখিত চাহিদা মোতাবেক কেন্দ্রীয় স্টোর থেকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে ওষুধ গুলো ওয়ার্ডের স্টোরে সংরক্ষণ এবং স্টকলেজারের এন্ট্রি দেয়ার পর ডাক্তারের নির্দেশনা মোতাবেক রোগীদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়। এ কাজ নার্সরাই করেন। কেন্দ্রীয় স্টোর কিপার, ওয়ার্ড ইনচার্জ নার্সের সংশ্লিষ্টতা ব্যতিত কোনো কর্মচারীই সরকারি ওষুধ কোনোভাবেই সংগ্রহ, পাচার কিংবা বিক্রি করতে পারে না।