
রানা ইস্কান্দার রহমান
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
ঈদ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর নিয়ে গত শনিবার (৮ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং
অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ব্রিফিং এ গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন,
মুজিববর্ষে “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে সেমিপাকা একক গৃহ নির্মাণের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। সমগ্র দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে মুজিববর্ষে ২ শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে সমাজের গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষেরা আগামী ১১ জুন ২০২৪ তারিখে ৫ম পর্যায়ের (২য় ধাপ) ১৮ হাজার ৫৬৬টি জমিসহ পাকা ঘর পাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ পর্যায়ে (৫ম পর্যায়ে ২য় ধাপ) ৪টি উপজেলায় ৪০৫ টি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জরাজীর্ণ ব্যারাক প্রতিস্থাপন করে একক গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে ২২৫টিসহ মোট ৬৩০টি পরিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাচ্ছেন জমিসহ পাকা ঘর। একইদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলাকে ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করবেন। ইতোমধ্যে গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে প্রাকৃতিক বা অন্য কোন বিশেষ কারণে অনা কোন ব্যক্তি ভূমিহীন বা গৃহহীন হলে তাদেরকে দ্রুততার সাথে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।
জমিসহ প্রতিটি ঘরের মালিকানা স্বামী স্ত্রীর ৫০% করে এবং যেখানে উপকারভোগী একজন সেখানে তিনি পূর্ণ ঘরের মালিকানা লাভ করবেন যার ফলে বাংলাদেশের সর্বত্র নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হচ্ছে। একই সাথে উপকারভোগীগণ সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলার ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার সংখ্যা ৮১৮৯টি। এর মধ্যে ১ম পর্যায়ে ৮৪৬টি, ২য় পর্যায়ে ১৪৩০টি, ৩য় পর্যায়ের ২৪১৬টি, ৪র্থ পর্যায়ে ১৮৭২টি ও ৫ম পর্যায়ে (১ম ধাপ) ১৫৪টিসহ সর্বমোট ৬৭১৮টি একক গৃহে ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এছাড়াও অন্য উপায়ে ব্যারাক ও গুচ্ছগ্রামে ১০৬৬টি ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন গাইবান্ধার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমকে সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মানরিক উদ্যোগকে সফল ও সার্থক করতে গাইবান্ধা জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সকল সম্মানিত সাংবাদিকগণের একান্ত সহযোগিতা কামনা করছি।