
জাবি প্রতিনিধি
বন্যার্তদের সহায়তায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বটতলা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ ‘এই সংসদ ভারতের বিষয়ে শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবে’ শীর্ষক এ বিতর্কের আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন (জেইউডিও)৷
বুধবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। জেইউডিওর মডারেটর অধ্যাপক ড. এটিএম আতিকুর রহমান এ বিতর্কে স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জামাল উদ্দীন রুনু ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন জলী।
সরকার দলের প্রধানমন্ত্রী জাফর ইমামের নেতৃত্বে বিতর্কে অংশ নেন সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি ও আল রাব্বী সিমেন্স। অপরদিকে বিরোধী দলীয় নেতা জাফর সাদিকের নেতৃত্বে অংশ নেন সোহানুর রহমান ও মির্জা সাকি।
যুক্তিখন্ডন পর্বে বিরোধী দলীয় নেতা জাফর সাদিক বলেন, তুমি ভাল হলে আমিও ভাল- এটাই পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা। সীমান্তে গুলি চললে আপনাকেও গুলি চালাতে হবে৷ আলোচনার টেবিলে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে। ভারতের সাথে আমাদের সকল চুক্তিকে জনসম্মুখে নিয়ে আসতে হবে৷ প্রয়োজনে নতুন চুক্তি করতে হলেও নিজেদের ভিত শক্ত রেখে তারপর বাস্তবায়ন করতে হবে৷ করার জন্য৷ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের মধ্যে ভারতের দাললালদের চিহ্নিত করে দালালি বন্ধ করতে হবে।
যুক্তিখন্ডন পর্বে প্রধানমন্ত্রী জাফর ইমাম বলেন, ভারতের সাথে বন্ধুত্ব থাকবে কিনা এটা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত চিন্তিত। এমন বন্ধু হওয়া উচিত আমরা হাঁটুতে পানিতে ডুবলে সেও হাঁটু পানিতে নামে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি অনেক ডার্ক৷ আজকে গঙ্গা চুক্তি, মংলা চুক্তি আমাদের সামনে পরিষ্কার না। চুক্তিগুলো এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যেন আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়৷ তবে আমাদের পলিটিকাল সিস্টেমে জনহণের আশা-আকাঙ্খার পূরণ না হওয়ায় পররাষ্ট্রনীতিও সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কিউবা যেভাবে আমেরিকাকে বাধ্য করেছে, সেভাবে আমাদের নীতি সাজানো উচিত।
বিচারক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন হলে তা দেশের জন্য মর্যাদাজনক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়৷ একটি দেশের কালচার সোসাইটি আর পরিবেশ পররাষ্ট্রনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ আভ্যন্তরীণ নীতির বাহ্যিক রূপ হলো পররাষ্ট্রনীতি। বর্তমান পরিস্থিতি বলে দিবে আমরা কতটা নায্যতার জায়গাই আছি। ১৪ এর নির্বাচনের আগে ও পরে এক ধরণের নতজানু নীতি অবলম্বন করা হয়েছে।
বিচারক অধ্যাপক পারভীন জলি বলেন, এতদিন আমরা ভারতের সাথে সম্পর্ক বলতে বুঝতাম৷ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক। গত ৫০ বছরে আমরা দেখেছি,ভারতের প্রতি অতিরিক্ত নতজানু নীতি বা বিদ্বেষ- কোনটি দিয়েই মোকাবিলা করতে পারব না। সার্কভুক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারত প্রতিবেশি হিসেবে আমাদের সঠিক মূল্যায়ণ করে না৷ ভারত বাংলাদেশকে দিয়ে পুরো পৃথিবীব্যাপী মৌলবাদী; সহিংস আন্দোলনকারী হিসবে দেখিয়েছে। ভারতকে বুঝতে হলে শুধু দিল্লী দিয়ে বুঝলে চলবে না, কাশ্মীর দিয়েও বুঝতে হবে৷ ধর্মীয় ব্যাপার ব্যবহার করে ভারত যে আমাদের শাসায়, তা বন্ধ করতে হবে।
স্পিকার অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান বলেন, বৈষম্যহীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এ বাংলাদেশ পেয়েছি। সেখানে আর কোন বৈষম্যমূলক চুক্তি হোক, তা আমরা চাই না। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিবর্তনের কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করা উচিত।