
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চব্বিশের গনঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে স্মরণসভা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের আয়োজন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাত আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গনে (REMEMBERING OUR HEROES) ‘রিমেম্বার আওয়ার হিরোস’ শিরোনামে দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় সাভার অঞ্চলের শহিদদের স্মরণে কবর জিয়ারত এবং বাদ আসর কেন্দ্রীয় জমে মসজিদে শহিদদের স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আয়োজন সম্পর্কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক লাবীব আহসান বলেন, যাতে আমরা জুলাইয়ের বিপ্লবকে ভুলে না যায় সেজন্যই আমাদের এ আয়োজন। জুলাইকে ধারণ করুক বাঙালি যুগ থেকে যুগান্তর। জুলাই হোক আমাদের চেতনা, জুলাই হোক আমাদের প্রেরণা।
আন্দোলনে আহত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক বনিক বার্তার প্রতিনিধি মেহেদী মামুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিসি ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখে গণহারে আক্রমণ করলেও পুলিশের কোনো অ্যাকশন লক্ষ্য করা যায়নি। বরং ঐ কালোরাত্রিতে নিকৃষ্ট পুলিশ অফিসার আব্দুল্লাহ হিল কাফি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত করছিলো। কিন্তু বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হল থেকে গণহারে ছাত্ররা বেরিয়ে আসলে ছাত্রলীগ পিছু হাটে। তখন পিছন থেকে এক পুলিশ অফিসারকে বলতে শুনা যায়,”শট-গান বের কর, আমরা যাব।” তার কয়েক সেকেন্ড পরই আমি গুলিবিদ্ধ হই।
আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আরিফ সোহেল বলেন, আমরা ১লা জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু করি। ১৪ তারিখ সর্বপ্রথম আমরা বাধার সম্মূখীন হই। আমাদের দুই আন্দোলনকারীকে রবীন্দ্রনাথ হলে আটকে রাখা হয়। আমরা সাথে সাথে বটতলা থেকে মিছিল নিয়ে তাদের উদ্ধার করি। পরবর্তীতে ১৫ জুলাই শুধু জাহাঙ্গীরনগরের জন্য নয় পুরো বাংলাদেশের জন্য ছিলো একটা ঐতিহাসিক মূহুর্ত। ঐদিন রাতে ছাত্রলীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে যে নৃশংস হামলা করেছিলো। এ আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।