
মারুফ আহম্মেদ,খুবি প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে শুক্রবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে।
ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রেশমী চাকমা বলেন, পৃথিবীর সব ফুল যদি গোলাপ হতো তাহলে আমরা শিউলি ফুলের সুভাষ পেতাম না। তেমনি বাংলাদেশে যদি একমাত্র বাঙালিরাই থাকতো তাহলে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ পেতাম না। আমরা আদিবাসী আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য রয়েছে। আমরাও অন্যান্যদের মতো স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। আমরা আমাদের অধিকার চাই। আমরা সেনাবাহিনীর বিপক্ষে নয় বরং পাহাড়ে সেনাশাসনের বিপক্ষে। পাহাড়ে নিরাপত্তার নামে সেনাবাহিনীরা আদিবাসীদের উপর যে নির্যাতন চালায় তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম অন্যান্যদের মতো আমরাও স্বাধীন হবো কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, পাহাড়ে যারা বসবাস করে তাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলে রীতিমতো অপমানিত করা হয়। ১৯৭১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত আমরা আজও বৈষম্যহীন স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারেনি। যারা শাসন ক্ষমতায় আছেন তাদেরকে বলতে চাই যে, অবিলম্বে আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো বন্ধ করতে হবে।
যেকোনো সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনার কোন বিকল্প নেই ।প্রয়োজনে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক আলোচনা করতে হবে তবুও বন্দুকের গুলি চালানো যাবে না। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী হাসিনা গুলি করে জনতাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। তাই বলতে চাই যে যেকোনো সমস্যার সমাধানের জন্য গুলিবর্ষণ নয় বরং আলোচনাই শ্রেয়। পাহাড়ে সকল প্রকার সামরিক শাসন বন্ধ করতে হবে।
আদিবাসীরা অভিযোগ করে যে তারা বাজারে গেলেও সেনাবাহিনীদের কৈফিয়ত দিতে হয় কতটুকু বাজার করবো।একটি স্বাধীন দেশে এটা চলতে পারে না। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিভক্ত করতে চায় না কিন্তু আমরা আমাদের অধিকার চাই। আপনারা যেমন বাংলাদেশকে ভালোবাসেন আমরাও আমাদের এই মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ভালবাসি।