
তামিম ইকবাল রাজু, বরিশাল প্রতিনিধি
কৌটা আন্দোলনের বিভিন্ন দিক,২৪ এর গণ অভ্যুত্থান ও ছাত্র জনতার সরকার নিয়ে কথা হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদের সাথে।
তিনি ছাত্র আন্দোলন শুরু এবং স্বৈরাচার দমন আন্দোলনের একদফা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “কোটা সংস্কারের দাবিতে অরাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিল ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের।কেবল একটি দাবি আদায়ের আন্দোলন বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন মোড় নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়। আওয়ামীলীগের রাতের ভোটের সরকারের মসনদ টিকিয়ে রাখতে যেকোনো আন্দোলন শক্তি প্রয়োগ করে দমন করায় শেখ হাসিনা ছিল সিদ্ধহস্ত।”
কোনো আন্দোলনকে যখন কোনো রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানো যেত তখন সেটাকে সহজেই দমন করে ফেলতে পারতো কারণ তখন তাদের পক্ষে আর আপামর সাধারণ জনতা দাড়াতে আসতোনা।কিন্তু এবার স্বৈরাচারের সেই চিরচেনা কৌশলকে ব্যর্থ করে দিয়েছে আন্দোলনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এর অরাজনৈতিক রূপ।
আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সারা বাংলাদশের সবখানেই অরাজনৈতিক সাধারণ ছাত্র-জনতা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। শেষদিকে যখন সরকার পতন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় তখন রাজনৈতিক দলগুলোও সর্বশক্তি নিয়োগ করে আন্দোলনে যুক্ত হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী এবং অরাজনৈতিক সাধারণ ছাত্র জনতার আন্দোলনের উদ্দেশ্যে দৃশ্যত কোনো পার্থক্য না থাকলেও মনজগতে অবশ্যই একটা ভিন্নতা ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অরাজনৈতিক জনতা কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যে আন্দোলন করেনি বরং একটি বৈষম্যহীন,ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিল।অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা নিজ নিজ দলীয় রাজনীতি করার অধিকার এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করার সুপ্ত বাসনা নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল।
৫ই আগস্ট খুনি হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে।রাজনৈতিক দলগুলো যেই আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুদ্ধ করেছিল তাদের সেই আশা আকাঙ্ক্ষা শতভাগ পূরণ হয়েছে কারণ তাঁরা এখন একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে।
কিন্তু সাধারণ ছাত্র-জনতা কি এত জীবন আর রক্তের বিনিময়ে তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন,ন্যায় বিচার আর সুশাসনের বাংলাদেশ পেয়েছে? আসলে কি এমন একটা বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব? ৫ই আগস্ট মনে হয়েছিল এমন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়াটা খুব করে সম্ভব। যেই ঐক্য এবং স্বতঃস্ফূর্ততা সেদিন দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতার মাঝে দেখা গিয়েছিল সেটা বজায় রাখতে পারলে সত্যিই আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা দেখতে পেতাম। এদেশের তরুণ ছাত্র-জনতার সেই ঐক্য এবং স্বতঃস্ফূর্ততাই মূলত আমাদের একমাত্র অর্জন ছিল ২৪’র এই গণঅভ্যুত্থান থেকে। এই মুহুর্তে আমরা যদি অভূতপূর্ব সেই ঐক্য এবং স্বতঃস্ফূর্ততা বজায় রাখতে না পারি তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের ওপর আবারও কোনো এক দুঃশাসন চেপে বসবে যেভাবে ছিল গত প্রায় ষোলটি বছর।
অতএব, এখন সাধারণ ছাত্র-জনতার দেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্রতম দায়িত্বটি হবে গণঅভ্যুত্থান থেকে পাওয়া এই অমূল্য রত্মটিকে সংরক্ষণ করা অর্থাৎ যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ এবং সচেতন থাকা।”
তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন যেকোনো উপায়েই আমাদের এই বিপ্লব কে টিকিয়ে রাখতে হবে।